ভূমধ্যসাগরে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মিসরের, মজুত প্রায় ২০ হাজার কোটি ঘনফুট

ভূমধ্যসাগরে নতুন প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে মিসর। 'নাসিম-১এক্স' নামের অনুসন্ধান কূপের ভাণ্ডারে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০ হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাস রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার মিসরের পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। মন্ত্রণালয় জানায়, তাইবা কনসেশন এলাকায় অবস্থিত কূপটিতে খনন ও মূল্যায়ন কাজের পর প্রায় ১৫ মিটার নিট পুরুত্বের একটি গ্যাসবাহী স্তর পাওয়া গেছে, যার ভূতাত্ত্বিক ও পেট্রোফিজিক্যাল বৈশিষ্ট্য স্বতন্ত্র।
কায়রো আশা করছে, এই আবিষ্কার দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।
কতটা গ্যাস উত্তোলন করা যাবে, দৈনিক উৎপাদনের হার কেমন হতে পারে এবং আবিষ্কারটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কি না—তা নির্ধারণে কারিগরি ও ভাণ্ডার-সংক্রান্ত গবেষণা এখনো চলছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
উৎপাদন শুরুর কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করেনি মন্ত্রণালয়।
আবিষ্কারটি দ্রুত কাজে লাগাতে প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে কূপটিকে বিদ্যমান উৎপাদন সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে মিসর। পাইপলাইনটি আবু মাদি–এল গামিল পাইপলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
এতে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করা যাবে এবং উৎপাদন শুরু করতে প্রয়োজনীয় সময় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতালির কোম্পানি এনি অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি উডসাইডের সঙ্গে অংশীদারিত্বে তাইবা কনসেশন পরিচালনা করছে। আর মিসরের প্রতিষ্ঠান পেট্রোবেল অংশীদারদের পক্ষে কূপটিতে খননকাজ চালিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় ইতিবাচক ফলাফলের কৃতিত্ব দিয়েছে বিনিয়োগ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম বৃদ্ধিকে। মন্ত্রণালয় জানায়, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হয়েছে এবং জ্বালানি খাতে কর্মরত বিদেশি কোম্পানিগুলোর বকেয়া পাওনা পরিশোধে অগ্রগতি হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি করা গ্যাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে মিসরের। দেশটি এখন নতুন আবিষ্কারের উন্নয়ন ও দ্রুত অনুসন্ধানকাজের মাধ্যমে স্থানীয় সরবরাহ জোরদার করতে চাইছে।



