ভারী বৃষ্টিতে গাজায় ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত, জরুরি সাহায্যের আহ্বান
ভারী বৃষ্টিতে গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও কয়েক হাজার আশ্রয়কেন্দ্র। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয় ভেঙে পড়েছে।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিতে ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে এবং কয়েক ডজন দেয়াল ধসে পড়েছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ঝড়ের পর তারা দেড় হাজারের বেশি জরুরি ফোনকল পেয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে দুই হাজারের বেশি ভবন।
উত্তর গাজার গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খালিলি জানিয়েছেন, অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করা পরিবারগুলোর আশ্রয় কঠোর আবহাওয়ার সামনে একেবারেই অরক্ষিত। তিনি বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় পরিবারগুলো দিনের পর দিন ধরে শক্ত করার চেষ্টা করা আশ্রয়গুলো ভেঙে পড়েছে।
আল-খালিলি জানান, তিনি ভেজা গদি, বালিশ ও কাপড়চোপড় দেখেছেন। তাঁর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় চার লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এমন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন, যেগুলো আরও বন্যার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক আশরাফ আবু আমরা জানিয়েছেন, যেসব বাস্তুচ্যুত পরিবারের আশ্রয় প্লাবিত হয়েছে, তারা শনিবার ভোর থেকে কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি।
ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি জোনাথন ভেইচ বলেছেন, বেশিরভাগ মানুষ ভয়াবহ অবস্থায় বসবাস করছে। অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আরও তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ লাখ ডলার। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ধরে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত মানুষদের পর্যাপ্ত আশ্রয় দিতে অন্তত তিন লাখ তাঁবু প্রয়োজন।
এই বন্যা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজায় মানবিক সংকট চলছে। ইসরায়েল যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে ত্রাণ সরবরাহের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলের যুদ্ধে গাজায় বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ত্রাণ, আশ্রয় সামগ্রী ও পুনর্নির্মাণ উপকরণের ওপর চলমান বিধিনিষেধ ত্রাণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৭৪ হাজার ৬৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ১ হাজার ৬১০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।
বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এখন শীতের মুখে আরও কঠিন পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা দ্রুত না পৌঁছালে সংকট আরও গভীর হবে।

