সাদমানের জাদুকরি বোলিংয়ে ২ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় নর্থ সাউথের

১৮ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৬ রান। হাতে তখনো ৭ উইকেট। জয়ের সুবাস পাচ্ছিল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)। কিন্তু শেষ দুই ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৩ রান। এমন সহজ সমীকরণও যে কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, তারই রোমাঞ্চকর উদাহরণ দেখা গেল এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে। সাদমান ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের চিত্রটাই বদলে গেল।
এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে এআইইউবি প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নর্থ সাউথকে। শুরুতে উইকেট হারালেও ফারজান আহমেদের ব্যাটে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় তারা। ৩৮ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় ৫৫ রান করেন ফারজান। রাইয়ান শাবাবের ১৮ বলে ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংসও দলের সংগ্রহ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত ১৯.৪ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয় নর্থ সাউথ।
এআইইউবির আব্দুল্লাহ আল-তৌফিক ২৬ রানে নেন ৩ উইকেট। ইয়াসির আরাফাত ও মাশরাফি পান ২টি করে উইকেট।
১৪৭ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিল এআইইউবি। আজমির আহমেদের ১৫ বলে ২১, লাবীবের ২৭ বলে ২৬, ইয়াসির আরাফাতের ২৫ বলে ৩৬ এবং আদ-আল জাব্বারের ৩১ বলে ২৮ রানে জয়ের পথেই ছিল দলটি। ১৭তম ওভারের আগ পর্যন্ত তাদের অবস্থান ছিল বেশ ভালো।
১৮ বলে প্রয়োজন ছিল ১৬ রান, হাতে ৭ উইকেট। কিন্তু এরপরই ম্যাচে নাটকীয় মোড়। বল হাতে ঝড় তোলেন সাদমান ইসলাম। তাঁর এক ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে হঠাৎ চাপে পড়ে যায় এআইইউবি। মুহূর্তেই পাল্টে যায় ম্যাচের সমীকরণ।
শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। কিন্তু সাদমানের তোপে আর লক্ষ্য ছোঁয়া হয়নি তাদের। শেষ ওভারে এআইইউবির জিততে প্রয়োজন ছিল ৬ রান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে ছিল উত্তেজনা। তবে সেই সমীকরণ মেলানোর আগেই ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে ১৪৪ রানে অলআউট হয়ে যায় এআইইউবি।
মাত্র ২ রানের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নর্থ সাউথ। নর্থ সাউথের জয়ের নায়ক সাদমান ইসলাম। মাত্র ২.৫ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
তাঁকে দারুণ সহায়তা করেন আফনান তাহমিদ ও আলভে চৌধুরী। দুজনই নেন ২টি করে উইকেট। দুর্দান্ত বোলিংয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন সাদমান, হয়েছেন ম্যাচসেরা।



