ডেমোক্র্যাটদের মধ্যবর্তী জয়ে ইলেকটোরাল কলেজ এড়ানোর পথ খুলতে পারে ২০২৮ সালের আগেই

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সাফল্য আমেরিকা কীভাবে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে, সেই লড়াইয়ে একটি নতুন মোড় খুলে দিয়েছে—যা ২০২৮ সালের হোয়াইট হাউসের দৌড়কে বদলে দিতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা এখন মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিন ও নেভাদায় গভর্নরের দপ্তর এবং রাজ্য আইনসভার দুটি কক্ষই নিয়ন্ত্রণ করছে। ন্যাশনাল পপুলার ভোট ইন্টারস্টেট কমপ্যাক্ট ইতিমধ্যে ১৮টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে কার্যকর হয়েছে। এতে ২২২টি ইলেকটোরাল ভোট প্রতিশ্রুত হয়েছে—কার্যকর হতে প্রয়োজনীয় ২৭০টি থেকে ৪৮টি কম।
ওই চারটি রাজ্য যোগ দিলে তাঁদের মোট ৫০টি ইলেকটোরাল ভোট কমপ্যাক্টকে ২৭২-এ পৌঁছে দেবে এবং তা কার্যকর হবে। অ্যারিজোনায় ডেমোক্র্যাটরা শেষ পর্যন্ত উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে মোট ২৮৩-এ পৌঁছাবে।
কমপ্যাক্টের প্রণেতা ও রাজ্যে রাজ্যে এটি কার্যকরের প্রচার চালানো অলাভজনক সংস্থা ন্যাশনাল পপুলার ভোট (এনপিভি) জানিয়েছে, তারা ওই পাঁচটি রাজ্যের প্রতিটিতে একাধিক আইনপ্রণেতা স্পনসর চিহ্নিত করেছে, যাঁদের সম্মিলিত ইলেকটোরাল ভোট মোটকে ২৭০-এর সীমা পার করাতে পারে। সংস্থাটি আশা করছে, ২০২৭ সালের আইনসভা অধিবেশনের আগে বা শুরুতেই বিলগুলো দাখিল করা হবে।
এনপিভির জ্যেষ্ঠ পরামর্শক প্যাট্রিক রোজেনস্টিল বলেন, ৬৩ শতাংশ আমেরিকান যা চান, তা দিতে প্রয়োজনীয় ৪৮টি ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত করার একাধিক পথ রয়েছে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় মেইন ও নেব্রাস্কা ছাড়া প্রতিটি রাজ্য তাদের ইলেকটোরাল ভোট দেয় রাজ্যজুড়ে ভোটে জয়ী প্রার্থীকে। কমপ্যাক্ট কার্যকর হলে অংশগ্রহণকারী রাজ্যগুলো এর পরিবর্তে তাদের ইলেকটরদের দেবে সারা দেশে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থীকে। এতে ইলেকটোরাল কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে টিকে থাকবে, কিন্তু জাতীয় ভোটের ফলই নির্ধারক হবে।
সমর্থকদের যুক্তি, কমপ্যাক্ট প্রতিটি ভোটকে সমান গুরুত্ব দেবে, কারণ সব ভোট একটি জাতীয় মোটের দিকে গণনা করা হবে। অন্যদিকে ইলেকটোরাল কলেজ এমনভাবে গঠিত হয়েছিল যাতে জনবহুল ও ছোট—উভয় ধরনের রাজ্যই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারে।
রক্ষণশীল সংস্থা অ্যাডভান্সিং আমেরিকান ফ্রিডমের নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ হ্যান্স ভন স্পাকোভস্কি বলেন, কমপ্যাক্ট দিয়ে মূলত ইলেকটোরাল কলেজ বদলে ফেলা যাবে না। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের সাবেক কমিশনার স্পাকোভস্কি বলেন, এটি অভূতপূর্ব। অতীতে রাজ্যগুলোর মধ্যে কমপ্যাক্ট হয়েছে পানি ভাগাভাগির মতো বিষয়ে, যখন নদী রাজ্যগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু সংবিধানের মৌলিক কাঠামোগত বিষয় বদলে দেওয়া কমপ্যাক্টকে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক বলবে বলে তিনি মনে করেন।
রোজেনস্টিল এই যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২, ধারা ১ অনুযায়ী রাজ্যগুলোর প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকটর নিয়োগের পদ্ধতি নির্ধারণের একচেটিয়া ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর মতে, একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য আইনি প্রশ্ন হলো, এই কমপ্যাক্টের জন্য কংগ্রেসের সম্মতি প্রয়োজন কি না।
ভন স্পাকোভস্কি বলেন, যেহেতু এনপিভি কমপ্যাক্ট রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি, তাই সংবিধানের কমপ্যাক্ট ক্লজ অনুযায়ী কংগ্রেসকে এটি অনুমোদন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কংগ্রেস হাউস ও সিনেটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কমপ্যাক্ট অনুমোদন করতে পারে এবং সংবিধানে স্পষ্টভাবে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই—অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের ভেটো তা থামাতে নাও পারে।
তবে ভন স্পাকোভস্কি আরও বলেন, কমপ্যাক্টে অংশ না নেওয়া রাজ্যগুলোর মামলা করার শক্ত ভিত্তি থাকবে। তাঁর মতে, এনপিভি সম্পূর্ণভাবে ডেমোক্র্যাটদের সৃষ্টি এবং কেবল ডেমোক্র্যাটরাই এটি সমর্থন করে, তাই নতুন কংগ্রেস সহজেই এই কমপ্যাক্ট পাস করবে। কিন্তু অংশগ্রহণকারী নয় এমন রাজ্যগুলো সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে যুক্তি দেবে যে সাংবিধানিক সংশোধনী প্রক্রিয়া ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামোগত অংশ বদলে দেওয়া অসাংবিধানিক।



