যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে 'নরক নেমে আসবে', ইরানের হুঁশিয়ারি; ট্রাম্প বললেন বাহিনী প্রস্তুত
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে 'নরক নেমে আসবে' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী 'লকড অ্যান্ড লোডেড'—প্রয়োজনে আঘাত হানতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, আট মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ওয়াশিংটনকে একটি চরমপত্র দিচ্ছেন তিনি।
আরাগচি লেখেন, 'আমাদের দুই দিনের প্রস্তাব এখনো বহাল আছে: সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধসহ শর্তগুলো মানুন, তাহলেই ফল দেখতে পাবেন। অথবা যুদ্ধ বেছে নিন, আর আমাদের সতর্ক ও যুদ্ধ-কঠিন যোদ্ধাদের নরক নামিয়ে আনতে দেখুন।'
অন্যদিকে ট্রাম্প রোববার বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগোলে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিলে নতুন করে ইরানে হামলার সম্ভাবনা 'খুবই কম'।
সিএনএনের খবরে প্রকাশিত এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'এটা নির্ভর করে তারা খুব শক্তিশালী একটি চুক্তিতে সই করে কি না তার ওপর। প্রয়োজন হলে আমি (হামলা) চালাব, তবে আমরা তাদের খুব শক্ত আঘাত করেছি।'
ট্রাম্প জানান, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে, যেগুলো 'সম্পূর্ণ লকড অ্যান্ড লোডেড'। প্রয়োজনে হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে সেগুলো।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ৩৮টি সেতু যুক্তরাষ্ট্রের নিশানায় রয়েছে, যেগুলো 'আক্ষরিক অর্থে এক ঘণ্টায়' ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববারের এক বিবৃতিতে আরাগচির বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়, ইরান এ অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোর ব্যাপারে 'সহজে ছাড় দেবে না'।
আরাগচির এই বক্তব্যের আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, রোববার সকালে হরমুজ প্রণালির পূর্বে একটি নৌ মাইনে আঘাত করে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ইরানের নৌবাহিনীর বরাতে এ খবর দেওয়া হয়।
নৌবাহিনীর দাবি, জাহাজটির শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল এবং সেটি প্রণালির নিষিদ্ধ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডারের এক উপদেষ্টাও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুরে হুমকি দেন। তিনি বলেন, অস্ত্র 'আগামী বছরগুলোর জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে'।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি বেলালি বলেন, 'সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে, আর শত্রু ভুল করলে ইরানের জবাব হবে ধ্বংসাত্মক ও কঠোর।'
বেলালি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা যেমনটা জানিয়েছেন, 'রমজান যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছি।'
নেতাদের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ জিতেছে এবং ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করেছে।
আরাগচি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের কারণে আলোচনা বিলম্বিত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে তিনি বলেন, 'পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে এবং মধ্যস্থতাকারীদের সফর পুনরায় শুরু হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগবে। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।'


