মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পরও অভিবাসন অভিযান থামবে না, জানাল হোয়াইট হাউস

গত সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের ব্যাপক বহিষ্কার পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। রোববার বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রশাসন জানায়, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের অভিযান আগের মতোই চলবে।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, 'এই প্রশাসন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রচেষ্টা ধীর করবে না, যারা আমাদের সম্প্রদায়গুলোকে আতঙ্কিত করছে।' একই বার্তা দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও (ডিএইচএস)।
শুক্রবার ট্রাম্প অভিবাসন-কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন। মিলারকে ট্রাম্পের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদের কঠোর অভিবাসন নীতির স্থপতি হিসেবে দেখা হয়। তাঁর এই পদোন্নতি প্রশাসনের অভিবাসন অবস্থানে কোনো নমনীয়তা আসবে না—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এক্সিট পোল বলছে, ভোটারদের কাছে অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের অবস্থার পর অভিবাসনই ছিল তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। টেক্সাসের মতো ঐতিহাসিকভাবে রক্ষণশীল রাজ্যেও লাতিনো ভোটারদের ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে যাওয়া দলটির এই জয়ে ভূমিকা রেখেছে।
তবে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বিবিসির মার্কিন সহযোগী সিবিএসকে বলেছেন, তাঁরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরাজয়ের কারণ হিসেবে অভিবাসন অভিযানকে নয়, বরং অর্থনীতি, জিনিসপত্রের দাম ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগকে দায়ী করছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস বলেন, 'অভিবাসন প্রয়োগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে শক্তিশালী আর কোনো প্রেসিডেন্ট কখনো ছিলেন না।' রোববারও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দিক পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই আসে না।
ডিএইচএসের একজন মুখপাত্র সিবিএসকে বলেন, 'আইসিই পিছু হটছে না বা ধীর হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সেক্রেটারি মুলিনের নেতৃত্বে ডিএইচএস আমাদের দেশের আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে এবং অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের আমাদের রাস্তা থেকে সরাবে।'
নির্বাচনের ফলের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য অভিবাসন কৌশল বদলের বিষয়ে খোলামনা মনোভাব দেখিয়েছিলেন। ফল নিয়ে এক দীর্ঘ অনলাইন পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে বেশি নজর দিয়ে প্রয়োগের ধরন বদলানোর ধারণার প্রতি তিনি আগ্রহী।
তবে মিলারের নিয়োগের পর হোয়াইট হাউসের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইয়ের সূত্রগুলো সিবিএসকে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কর্মকর্তাদের প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৭০০ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, যা আগের দৈনিক ২ হাজার লক্ষ্যের চেয়ে বেশি।
এ বছরের অভিযান শিকাগো, মিনিয়াপলিস ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে আইসিই-বিরোধী বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযানের ধরন ও মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মিনিয়াপলিসে অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হন। এই দুটি মৃত্যু অভিবাসন প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনে ধাক্কা খেলেও ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বরং মিলারের নিয়োগ ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্য বাড়ানোয় আগামী দিনগুলোতে অভিযান আরও জোরদার হওয়ার আভাস মিলছে।



