উরুগুয়ে সফর শেষে আর্জেন্টিনায় পোপ লিও, নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা

পোপ লিও চতুর্দশ রোববার উরুগুয়ে সফর শেষ করেছেন। সফরের শেষ অনুষ্ঠানে তিনি সেই নারীদের প্রশংসা করেন, যাঁরা ক্যাথলিক বিশ্বাসকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। একই সঙ্গে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ দেশটির প্রতিষ্ঠার পর থেকে গির্জার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
পোপ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের প্রার্থনা করতে শিখিয়েছ, আর আজ তারা আর তা করে না। তোমরা একসঙ্গে গির্জায় যেতে, আর বছরের পর বছর ধরে তারা গির্জায় পা রাখেনি।’ তবে তিনি তাঁদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘মা ও দাদি-নানিরা: বিশ্বাস পৌঁছে দিতে কখনো ক্লান্ত হয়ো না!’
দেশটির শেষ অনুষ্ঠানের জন্য তিনি মন্টেভিডিওর উত্তরে ফ্লোরিডা শহরে যান। সেখানে তিনি ভার্জিন অব দ্য থার্টি-থ্রি-র গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় ক্যাথলিক উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিশ্বাস পৌঁছে দেওয়া নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তিনি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নিয়েও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পুরুষদের তিনি স্ত্রীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণের আহ্বান জানান।
তাঁর ধর্মোপদেশে লাতিন আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা উঠে আসে: গত পাঁচ বছরে এ অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার নারীহত্যা (ফেমিসাইড) রেকর্ড করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঘটিয়েছেন ভুক্তভোগীর বর্তমান বা সাবেক সঙ্গী।
পোপ লিও প্রায় চার দশকের মধ্যে উরুগুয়ে সফর করা প্রথম পোপ। ক্রমশ ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে ওঠা দেশটির মানুষকে তাদের ক্যাথলিক পরিচয়ের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার আশায় তিনি এই সফর করেন।
ফ্লোরিডার ক্যাথেড্রালের বাইরে জড়ো হওয়া অন্তত ৫০ হাজার উপাসকের সামনে তিনি বলেন, ‘সাহসের সঙ্গে আমাদের বিশ্বাসকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, বলতে ভয় পাওয়া যাবে না: আমি একজন খ্রিষ্টান, আমি একজন ক্যাথলিক, আমি যিশু খ্রিষ্টে বিশ্বাস করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘উরুগুয়ের মানুষ মহৎ কাজ করতে সক্ষম... ঈশ্বরের কৃপায় আমরা যা পেয়েছি এবং অবাধে দিই, তা বহুগুণ হয়, দিগন্ত খুলে দেয় এবং আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে, নতুন অর্থ দেয়।’
উজ্জ্বল নীল আকাশের নিচে ফ্লোরিডার প্রধান চত্বরে গণপ্রার্থনার জন্য হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। কেউ কেউ সেখানে পৌঁছাতে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে এসেছিলেন। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
ধর্মোপদেশে পবিত্র পিতা ক্রাকোতে হামলার বিষয়েও কথা বলেন এবং বলেন যে তিনি ‘গভীরভাবে দুঃখিত’।
উরুগুয়ের পর রোববার সন্ধ্যায় পোপ বুয়েনস আইরেসে পৌঁছান। সেখানে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই কাসা রোসাদায় তাঁকে স্বাগত জানান।
এই সফর রাজনৈতিক বিতর্ক ছাড়া নয়। ক্যাথলিক গির্জা মিলেইর কৃচ্ছ্রতা নীতির সমালোচনা করেছে, যা সামাজিক ব্যয় ব্যাপকভাবে কমিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি তাঁর আগ্রহ নিয়েও গির্জার আপত্তি রয়েছে।
মিলেই আর্জেন্টিনার সমস্যাগ্রস্ত অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে ও দীর্ঘদিনের অধরা বাজেট উদ্বৃত্ত অর্জনে সামাজিক ব্যয় কমানোর ওপর তাঁর প্রেসিডেন্সি দাঁড় করিয়েছেন।
তিনি সামাজিক ন্যায়বিচারকে ‘বিকৃতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা তাঁর মতে চুরির সমতুল্য। কৃচ্ছ্রতা কর্মসূচির কারণে পরিবারগুলো মাসের শেষ পর্যন্ত চলতে পারছে না—এমন অভিযোগকেও তিনি ‘বিরাট বোকামি’ বলে উপহাস করেছেন।
আর্জেন্টিনার ক্যাথলিকদের কাছে অবশ্য এই সফর আধ্যাত্মিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পোপ লিও তাঁর পূর্বসূরি ফ্রান্সিসের পথের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হচ্ছেন—ফ্রান্সিসের জন্মনাম হোর্হে মারিও বেরগোলিও, তিনি জন্মসূত্রে আর্জেন্টাইন ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ইস্টার সোমবার মারা যান।


