সিইওর সম্পর্ক ঘিরে তদন্তে এনভিডিয়া, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়া তাদের প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে সন্দেহভাজন এক চীনা গুপ্তচরের সম্পর্কের খবর প্রকাশের পর স্বাধীন তদন্ত শুরু করেছে।
চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কোম্পানির গোপন তথ্য বা জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করার কোনো কারণ বোর্ডের নেই। পাশাপাশি সিইও কোম্পানির নেতৃত্বে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।
জেনসেন হুয়াং আলাদাভাবে স্বীকার করেছেন, তিনি স্ত্রীর প্রতি ‘অবিশ্বস্ত’ ছিলেন এবং স্ত্রী ও সন্তানদের আঘাত দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করেন, হুয়াংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা চীনা ব্যবসায়ী অ্যালিস হুয়াং চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন।
জেনসেন হুয়াং বলেন, তিনি যা করেছেন তার ‘সম্পূর্ণ দায়’ নিচ্ছেন এবং এনভিডিয়ার কর্মী, বোর্ড ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি তাঁর দায়িত্ব পালনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
এনভিডিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি এবং উদীয়মান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির হার্ডওয়্যার তৈরিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছে।
নিজের বিবৃতিতে সিইও বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বস্ত ছিলাম। আমার কাজ তাঁকে ও আমাদের সন্তানদের আঘাত করেছে। আমি যা করেছি তার কোনো অজুহাত নেই। আমি গভীরভাবে দুঃখিত।’
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়ে এনভিডিয়ার পরিচালনা পর্ষদ একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করেছে। আমি তদন্তকে সমর্থন করি এবং সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের দেশ ও আমাদের কোম্পানিকে ভালোবাসি। এনভিডিয়াকে রক্ষা এবং আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তাকে সমর্থন করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি একজন আমেরিকান হতে পেরে গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।’
এনভিডিয়ার পরিচালনা পর্ষদের পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেনসেন হুয়াং বিদেশি গোয়েন্দা প্রচেষ্টার লক্ষ্য হয়েছেন’—এমন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের আলোকে তদন্ত শুরু করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়, যা এনভিডিয়া ও এর শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ।’
‘জাতীয় নিরাপত্তা বা এনভিডিয়ার গোপন তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করার কোনো কারণ বোর্ডের না থাকলেও বোর্ডের তদন্তে সব উপলব্ধ তথ্য পরীক্ষা করা হবে।’
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অ্যালিস হুয়াংকে নজরদারিতে রেখেছিল এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে তিনি চীনা সরকারের পক্ষে কাজ করছেন—নিউ ইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশ না করা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নজরদারিতে অ্যালিস হুয়াং ও এক মার্কিন নাগরিকের মধ্যে যোগাযোগ ধরা পড়ে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ‘আনমাস্কিং’ নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই মার্কিন নাগরিককে জেনসেন হুয়াং হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
অ্যালিস হুয়াং—যিনি হুয়াং লে নামেও পরিচিত—বেইজিংয়ে কী তথ্য পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ, সেই তথ্যের মূল্য কতটা বা কখন থেকে তিনি তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন বলে মনে করা হয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
চীন এর আগে এনভিডিয়ার প্রধানকে লক্ষ্য করে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ভিত্তিহীন জল্পনা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অ্যালিস হুয়াং সংবাদপত্রটির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।



