জর্জিয়া এখন নীল রাজ্য, ঘোষণা গভর্নর-নির্বাচিত কেইশা ল্যান্স বটমসের

জর্জিয়ার গভর্নর-নির্বাচিত কেইশা ল্যান্স বটমস রোববার ঘোষণা দিলেন, জর্জিয়া একটি ‘নীল রাজ্য’। এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় নিরাপদে বলা যায় যে আমরা একটি নীল রাজ্য।’
কয়েক দশক ধরে রিপাবলিকানদের আধিপত্যে থাকা জর্জিয়ায় তাঁর জয় ইতিহাস গড়ছে। বটমস হতে যাচ্ছেন জর্জিয়ার প্রথম নারী গভর্নর ও প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে বটমস বলেন, ‘আমি পুরো প্রচারের সময় বলেছি, আমরা জর্জিয়ার মানুষকে এবং সারা দেশের মানুষকে দেখাব যে সিনেটর জন ওসফ ও রাফায়েল ওয়ার্নককে সিনেটে পাঠানো এবং ২০২০ সালে জর্জিয়াকে নীল করা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। আমরা সত্যিকার অর্থে সবাইকে দেখানোর পথে ছিলাম যে আমরা দৃঢ়ভাবে নীল, আর মঙ্গলবার আমরা সেটা খুব বড়ভাবে দেখিয়ে দিয়েছি।’
জর্জিয়ায় সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট গভর্নর নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৯৯ সালে, গভর্নর রয় বার্নস।
বটমসের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটরা এ বছর ব্যালটে থাকা প্রতিটি রাজ্যব্যাপী পদে জয়ের পথে রয়েছেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেফটেন্যান্ট গভর্নর, অ্যাটর্নি জেনারেল ও সেক্রেটারি অব স্টেটের পদ। তাঁরা ২২ বছরে প্রথমবারের মতো রাজ্য হাউসের নিয়ন্ত্রণও পেতে যাচ্ছেন।
‘দিস উইক’-এর সহ-সঞ্চালক জোনাথন কার্ল জানতে চান, ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা কীভাবে এসব ভোটারকে নিজেদের পক্ষে ধরে রাখবেন।
বটমস বলেন, ট্রাম্পের জেতা এলাকাগুলোতে যাওয়া ছিল তাঁর ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা সাধারণ নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছিলাম সেই কাউন্টিতে, যেখানে ট্রাম্প প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোটে জিতেছিলেন, আর শেষ করেছিলাম ট্রাম্পের জেতা আরেকটি কাউন্টিতে। আমি স্পষ্ট করতে চেয়েছিলাম যে আমি সেখানে শুনতে এসেছি, রাজ্যজুড়ে মানুষের উদ্বেগ শুনতে এসেছি। আমি শুধু ডেমোক্র্যাটদের কাছে প্রচার করছিলাম না, স্বতন্ত্র ও রিপাবলিকানদের কাছেও যাচ্ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘দিনের শেষে আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি, সেগুলো দলীয় সীমা ছাড়িয়ে যায়।’
বটমস দায়িত্ব নিচ্ছেন মেয়াদসীমার কারণে বিদায়ী রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। কেম্পের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের নানা সংঘাত ছিল। বটমস বলেন, তিনি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, তবে ‘প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করব ও লড়ব’।
তাঁর ভাষায়, ‘আমি দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গে কথা বলব, কীভাবে তাঁরা এই হোয়াইট হাউস সামলেছেন জানতে। প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনে আমি আটলান্টার মেয়র ছিলাম। সেখানে কয়েকজন যুক্তিসম্মত কণ্ঠস্বর ছিল, যাঁদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে পেরেছিলাম।’
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন যে স্টিফেন মিলার সুসি ওয়াইলসের স্থলে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হবেন। বটমস বলেন, এতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জটিল হবে। তাঁর কথায়, ‘আমি জানি না সেই কণ্ঠস্বরগুলো খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, বিশেষ করে চিফ অব স্টাফের এই পরিবর্তনের মধ্যে।’
নিজের ঐতিহাসিক জয়ের প্রকৃতি নিয়েও কথা বলেছেন বটমস। তিনি জানান, জয়ের দিন তিনি জর্জিয়ার ক্রফোর্ডভিলে দাসত্বে থাকা তাঁর প্রপিতামহী বেটসি পিকের কবর দেখতে গিয়েছিলেন।
তাঁর ভাষায়, ‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। আমরা সেই কবরস্থানে গিয়েছিলাম, যেখানে আমাদের পরিবারের সদস্যদের কবর আছে বলে মনে করেছিলাম। সেখানে অনেক অচিহ্নিত কবর রয়েছে। হঠাৎ আমরা একটি সমাধিফলক খুঁজে পেলাম, যাতে আমাদের পারিবারিক নাম লেখা। যখন দেখলাম এটা বেটসি পিক, আমি আক্ষরিক অর্থেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লাম।’



