বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম প্রাচীর হতে ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক জাহাজ এসএস ইউনাইটেড স্টেটস
মেক্সিকো উপসাগরের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক জাহাজ এসএস ইউনাইটেড স্টেটস। ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম প্রাচীর তৈরির জন্য বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) জাহাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফ্লোরিডার ওকালুসা কাউন্টির প্রাকৃতিক সম্পদ প্রধান অ্যালেক্স ফগ এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
ফগ বলেন, এসএস ইউনাইটেড স্টেটস বিশাল আকারের একটি জাহাজ। তাঁর ভাষায়, ‘এটি বিশাল। আমরা অতীতে অনেক কৃত্রিম প্রাচীর প্রকল্প করেছি, আর এটি সত্যিই আলাদা—এর আকারের কারণে, তবে এর গৌরবময় অতীতের কারণেও।’
জাহাজটি ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে নির্মিত হয়। এটি ইউরোপে যাতায়াত করত। বিমান ভ্রমণ অনেক বেশি কার্যকর হয়ে ওঠায় ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে এটি অবসরে যায়।
সে সময় জাহাজটি নানা বিখ্যাত ব্যক্তিকে বহন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে সৈন্য বহনের কাজেও ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।
এরপর কয়েক দশক ধরে জাহাজটি ফিলাডেলফিয়ায় পড়ে ছিল। পরে এটি ফ্লোরিডায় নিয়ে আসা হয়। ফগ বলেন, ফিলাডেলফিয়া থেকে মোবাইল, আলাবামা পর্যন্ত টেনে আনা ছিল খুব দীর্ঘ একটি যাত্রা।
তিনি জানান, ঠিকাদার, নৌ-স্থপতি, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডসহ নানা সংস্থার সঙ্গে অনেক যাচাই-বাছাই করতে হয়েছে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় জাহাজটি টেনে নেওয়ার মতো সমুদ্রোপযোগী। মোবাইলে জাহাজটির সম্পূর্ণ পরিশোধন করা হয়।
কেন প্রায় ৯০০ ফুট লম্বা একটি জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে মেক্সিকো উপসাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এই প্রশ্নের জবাবে ফগ বলেন, পর্যটন ও পরিবেশের উপকারে কৃত্রিম প্রাচীর নির্মাণ বাড়ানোর উপায় খুঁজছিলেন তাঁরা।
তাঁর ভাষায়, মানুষ যখন কোনো গন্তব্যে ডুব দিতে আসে, তারা বালি বা সব সময় প্রাকৃতিক প্রাচীরে ডুব দিতে চায় না। তারা সত্যিকারের ধ্বংসাবশেষে ডুবুরি হতে চায়। এসব ধ্বংসাবশেষ স্থাপন করায় ওই এলাকা ডুবুরিদের গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে।
ফগ বলেন, পরিকল্পনা ছিল—খুব বড় আকারের বা খুব আকর্ষণীয় গল্পের কোনো জাহাজ পাওয়া গেলে সেটি নেওয়া হবে। আর এসএস ইউনাইটেড স্টেটসই ছিল সেই জাহাজ।
তবে জাহাজটি ডোবানোর বিরোধিতাও আছে। গত সপ্তাহে জাহাজটির জন্য কাজ করা একটি অলাভজনক সংরক্ষণ সংস্থা এটি ঠেকাতে মামলা করেছে। সংস্থাটি পরিবেশগত প্রভাব এবং সামুদ্রিক জীব ও খাদ্যশৃঙ্খলের ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলেছে, যা মানুষের খাদ্য গ্রহণকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এ বিষয়ে ফগ বলেন, এসএস ইউনাইটেড স্টেটসের অনেক অনুসারী আছেন। অনেকে জাহাজটি বাঁচাতে চেয়েছিলেন, জাদুঘর হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন বা আবার চালু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আর কোনো বিকল্প ছিল না।
তিনি বলেন, জাহাজটি পুনরুদ্ধারের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা বা তহবিল ছিল না। তাই ওকালুসা কাউন্টি জাহাজটি অধিগ্রহণ করে বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম প্রাচীর হিসেবে নতুন জীবন দিয়ে একে বাঁচাচ্ছে।
ফগ আরও বলেন, যেসব এলাকায় প্রাচীর বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নেই, সেখানে কাঠামো স্থাপন পরিবেশের জন্য বিরাট উপকার বয়ে আনে—এমন অনেক তথ্য রয়েছে। কৃত্রিম প্রাচীর পরিষ্কারের ক্ষেত্রে ফেডারেল ও রাজ্য মানসহ সব মান পূরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
নিজেও একজন ডুবুরি ফগ বলেন, ডুব দেওয়া এক নেশা, যা থেকে তিনি কখনো মুক্তি পাবেন বলে মনে করেন না। প্রতিটি ডুবই আলাদা। নিচে গেলে চারপাশে মাছ আর প্রাচীরে জন্ম নেওয়া নানা কিছু দেখা যায়—এ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
জাহাজটি ডোবানোর দৃশ্য বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর অনলাইনে দেখা যাবে বলে জানানো হয়েছে।


