বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ:
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
বিজ্ঞাপন
এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিনবড়লেখা টুডে — বড়লেখা-সিলেট ও প্রবাসের নিয়মিত পাঠকের কাছে আপনার ব্যবসাকে পৌঁছে দিনবিজ্ঞাপনের তথ্য →
রাজনীতি

সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণরায় উপেক্ষা করা যাবে না: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক • • পড়ার সময়: ৫ মিনিট

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে এবি পার্টি আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক ওই আলোচনায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার যেসব সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে প্রশ্ন না তুলে সরকারকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে বলেও তিনি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হয়ে গেছে। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা সংবিধান দিয়ে হবে না, আর সংসদের অনুমতি নিয়ে ছাত্রনেতারা গণঅভ্যুত্থান করেননি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর এবং গণভোটের মধ্য দিয়ে জনগণের মতামত প্রকাশিত হয়েছে, এখন বাকি রয়েছে তা বাস্তবায়ন করা। সংবিধানের বিধান সামনে এনে গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধনের প্রক্রিয়ার কথা বলছে, গণভোট আয়োজনের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কিন্তু তার মতে, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রশ্নকে কেবল সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই।

সংস্কার বাস্তবায়ন না করার সমালোচনা করে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীন করার বিষয়গুলো সনদে গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু এসব সংস্কার বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে রাখছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সরকারদলীয় লোকজনকে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া এবং দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দ ও বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কর্মসূচির সময় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে; ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে এসব কর্মসূচি নেওয়ার উদ্দেশ্য কী, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফুয়াদ। তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের নিয়োগের কারণ ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর রাখতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করাই জুলাই জাতীয় সনদের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গণভোটের ব্যয় নিয়ে সরকারের আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগে গণভোট আয়োজনের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও এখন সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবার গণভোটের কথা বলা হচ্ছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ১১-দলীয় জোটের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, সরকার সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করলে তারা সহযোগিতা করবেন। তবে সনদকে ‘চার্টার অব ফ্রড’ বা প্রতারণার সনদ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরোধিতা করেন তিনি। তার ভাষায়, সরকার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যেদিন কথা বলা শুরু করবে, সেদিন তারা সরকারের সঙ্গে থাকবেন, পাশে থাকবেন এবং একসঙ্গে সহযোগিতা করবেন।

সবশেষে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে তারা জনগণের কাছে যাবেন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারকে সনদ ও গণভোটের রায় মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করবেন। রাষ্ট্রকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে জনগণ নিজেদের অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
এখানে আপনার বিজ্ঞাপন দিনবড়লেখা টুডে — বড়লেখা-সিলেট ও প্রবাসের নিয়মিত পাঠকের কাছে আপনার ব্যবসাকে পৌঁছে দিনবিজ্ঞাপনের তথ্য →

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি • ২ মিনিটে পড়ুন

আগামী বছর বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না, বেতাগীতে বললেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি

আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বরগুনার …

রাজনীতি • ৫ মিনিটে পড়ুন

জুলাই সনদ নিয়ে সাত মাসে ১৮ বার প্রতারণার অভিযোগ হাসনাত আবদুল্লাহর

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ…

রাজনীতি • ৫ মিনিটে পড়ুন

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাসে জাতি বিরক্ত, আলোচনা সভায় সরকারের কড়া সমালোচনা

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের আশ্বাসের এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। রাজধান…

রাজনীতি • ১ মিনিটে পড়ুন

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর ভাষায়, তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য…