ভারতীয় ভিসার স্লট আগেই ব্লক করে ফেলে অসাধু এজেন্টরা, কম ভোগান্তির আশ্বাস উপহাইকমিশনারের
ভারতীয় ভিসার স্লট নিয়ে ভোগান্তির মূল কারণ হিসেবে অসাধু এজেন্টদের দিকেই আঙুল তুলেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের উপহাইকমিশনার পাওয়ান বাধে। তিনি বলেছেন, অসাধু এজেন্টরা বেশ আগেই স্লটগুলো ব্লক করে ফেলে, ফলে সাধারণ নাগরিকেরা স্লট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন।
রোববার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের মানুষ যাতে সরাসরি আরও কম ভোগান্তিতে ভারতীয় ভিসা পেতে পারেন, সে জন্য অনেক পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাওয়ান বাধে বলেন, ‘মূল সমস্যাটা হলো স্লট নিয়ে। কারণ, আমরা অবশ্যই ট্রাভেল এজেন্টদের পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারছি না; এখানে প্রচুর অসাধু এজেন্ট কাজ করছে, যাদের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। তারা বেশ আগেই স্লটগুলো ব্লক করে ফেলে, যার ফলে সাধারণ নাগরিকেরা ভিসার স্লট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন এবং দুর্ভাগ্যবশত তাদের ওই এজেন্টদের শরণাপন্ন হতে হয়।’
ভারতীয় ভিসার স্লট বলতে বোঝায় ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে নির্ধারিত সুযোগ বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট। সেই অ্যাপয়েন্টমেন্টই আগেভাগে আটকে ফেলায় সাধারণ আবেদনকারীদের বাড়তি অর্থ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
উপহাইকমিশনার বলেন, দিন দিন ভিসাদান পদ্ধতিকে উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, ‘আমরা ওয়েবসাইটে আরও আইটি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ফিচার যুক্ত করেছি, যাতে সাধারণ মানুষ নিজেরাই সরাসরি আবেদন করে ভিসা পেতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসে বেশ কিছুটা পরিবর্তন এসেছে এবং এজেন্টদের কাছে না গিয়েই অনেক মানুষ এখন নিজেরাই সরাসরি ভিসার জন্য আবেদন করতে ও ভিসা পেতে সক্ষম হচ্ছেন। অর্থাৎ সরাসরি আবেদনের পথ ধীরে ধীরে প্রশস্ত হচ্ছে বলেই তার দাবি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের এই সফরে তিনি দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী হাসপাতাল ও অন্যান্য স্থাপনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেকাংশেই অভিন্ন। আমাদের দেশেরও দুর্গাপূজা উদ্যাপনও প্রায় একই রকম।’
এর আগে সন্ধ্যায় তিনি কুমুদিনী ক্যাম্পাসে পৌঁছালে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক মহাবীর পতি চন্দন তাকে স্বাগত জানান। এ সময় অন্যদের মধ্যে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হালিম, কুমুদিনী হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পাওয়ান বাধে কুমুদিনী লাইব্রেরি পরিদর্শনের পর বজরা নৌকাযোগে লৌহজং নদ পার হয়ে রণদার বাড়ির পূজামণ্ডপে যান। সেখানে তিনি ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় আরতি উপভোগ করেন। এ সময় কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতী সাহা ও কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক প্রদীপ কুমার রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য উপহাইকমিশনারের এই বক্তব্যের ব্যবহারিক তাৎপর্য হলো — স্লট-সংকটের কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ নিজেই অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের চিহ্নিত করেছে এবং সরাসরি আবেদনের ব্যবস্থা শক্ত করার কথা বলেছে। তবে স্লট ব্লক করার চক্রটি কতটা ভাঙা যাবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাস্তবে কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে ওয়েবসাইটে যুক্ত নতুন আইটি ও নিরাপত্তা ফিচারগুলো মাঠে কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।





