…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আন্তর্জাতিক › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আন্তর্জাতিক

ফাঁস হওয়া নথিতে নতুন তথ্য: গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থায় সরাসরি হাত ছিল ইসরায়েলেরই

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজা নিয়ে সম্প্রতি কিছু গোপন নথিপত্র ফাঁস হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গাজা উপত্যকায় কাতার যে অর্থ পাঠাত, তাতে সরাসরি হাত ছিল ইসরায়েলের। এমনকি প্রকাশ্যে কাতার সরকারের সমালোচনা করলেও এই অর্থের লেনদেন চালু রাখতে গোপনে দেনদরবার করেছিলেন উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘টাইম’-এর এক বিশদ তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইসরায়েলি, মার্কিন ও আরব সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চিঠিপত্র ও সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বছরের পর বছর ধরে হামাসশাসিত গাজায় কাতার থেকে সাহায্য পৌঁছানোর এই ব্যবস্থাটি তৈরি করা, চালানো এবং টিকিয়ে রাখার পেছনে সরাসরি সহযোগিতা করেছিল তৎকালীন ইসরায়েলি সরকারগুলো।

উন্মোচিত নথির মধ্যে ২০২০ সালের একটি চিঠিও রয়েছে। এটি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে লিখেছিলেন তৎকালীন মোসাদ প্রধান ইয়োসি কোহেন। গাজায় মানবিক সহযোগিতার জন্য কাতারের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে কোহেন লেখেন, এই সাহায্য উপত্যকাটির মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করতে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

একই বছরের আরেক চিঠিতে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক কর্মকর্তা—প্রতিবেদনে যিনি আর. এল. মাওজ নামে চিহ্নিত—কাতারকে এই আর্থিক অনুদান চালু রাখার স্পষ্ট অনুরোধ জানান। বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমেই যেন কাতার তাদের মানবিক অনুদান পাঠানো অব্যাহত রাখে, সেই জোর তাগিদ দিয়ে ওই কর্মকর্তা অনুরোধ করেন, অর্থ যেন কোনো মধ্যস্থতাকারী বা অন্য দেশের মাধ্যমে না পাঠিয়ে গাজা পুনর্নির্মাণে গঠিত কাতার কমিটির চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-এমাদীর মাধ্যমে সরাসরি পাঠানো হয়।

টাইমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের এই দ্বিমুখী আচরণে দারুণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কাতারের কর্মকর্তারা। একদিকে ইসরায়েলি নেতারা প্রকাশ্যে হামাসকে অর্থ সাহায্য দেওয়ার জন্য দোহার তীব্র নিন্দা করতেন, অন্যদিকে গোপনে গিয়ে তাদের অনুরোধ করতেন অনুদান চালিয়ে যেতে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সাময়িকীটিকে জানান, ইসরায়েলিদের এই আচরণ দেখে কাতার ২০১৮ সালে লিখিত প্রমাণ দাবি করে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এতে ইসরায়েলের সরাসরি সম্মতি রয়েছে।

২০০৭ সালে গাজার শাসনভার হামাস হাতে নেওয়ার পর থেকেই সেখানে টাকা পাঠানো শুরু করে কাতার। তদন্তে দেখা যায়, ২০১২ সালের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এক নতুন ব্যবস্থার অনুমোদন দেয়। ফলে ত্রাণসামগ্রী ও ওষুধ পাঠানো, কোন কোন পরিবার টাকা পাওয়ার যোগ্য তা বাছাই করা, ভাতা দেওয়া এবং গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর কাজে ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা তৈরি হয়।

পরে ইসরায়েল, কাতার ও জাতিসংঘের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে এই সহযোগিতা জোরদার করা হয়। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর গাজায় জ্বালানি কেনার টাকা দেওয়ার জন্য তিনটি পক্ষ মিলে একটি চুক্তিতে সই করে। ২০২১ সালের আগস্টে কাতার একটি নতুন প্রকল্পে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করে। উদ্দেশ্য ছিল, প্রায় ১ লাখ ফিলিস্তিনি পরিবারকে চার মাস ধরে প্রতি মাসে ১০০ ডলার করে সাহায্য দেওয়া। পরে এই চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়।

এই ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কূটনীতিকেরা জানান, কোন কোন ফিলিস্তিনি পরিবার অনুদান পাবে—সেই তালিকা ইসরায়েল নিজে যাচাই-বাছাই করত এবং পুরো টাকা বিতরণ ব্যবস্থা নজরদারি করত। জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে এসব টাকা পাঠানো হতো। নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে টাকা নেওয়ার আগে সুনির্দিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে খুদে বার্তা (এসএমএস) যেত।

তদন্তে বেরিয়ে আসা ২০১৯ সালের জুলাই মাসের একটি চিঠি থেকে জানা যায়, কাতার কীভাবে নেতানিয়াহু সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল যে ইসরায়েলের বাছাই করা ২০ হাজার ফিলিস্তিনির জন্য তারা ৬০ লাখ ডলার পাঠিয়েছে। এতে প্রতি পরিবার পেয়েছিল ৩০০ ডলার করে। তবে টাইম উল্লেখ করেছে, এই সহায়তা পাওয়া মানুষদের মধ্যে কতজন সরাসরি হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল বা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে হামাসের সম্পর্ক ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এই তদন্তের জবাবে কাতার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গাজায় পাঠানো অনুদানের টাকা যদি কোনোভাবে হামাসের হাতে গিয়ে থাকে, তবে তার পুরো দায় ইসরায়েলের। কাতারের আন্তর্জাতিক জনসংযোগ কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, গাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্যই কাতারের সব অনুদান পাঠানো হয়েছিল। পুরো কাজটি পরিচালিত হয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি দাবি করে যে এই অর্থ হামাসের কাছে পৌঁছেছে, তবে তার দায় ইসরায়েলের ওপরই বর্তায়। কারণ, পুরো তহবিল বিতরণ ব্যবস্থা তারাই তৈরি করেছিল এবং তারাই তা তদারকি করত।’

তদন্তে আসা সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে আরও দেখা যায়, ২০২৩ সালে কাতার এই ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল গাজার সাধারণ মানুষ যেন হামাস বা ইসরায়েল সরকারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে না থাকে। কিন্তু ইসরায়েল ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর, নেতানিয়াহু সরকার আগের সেই পুরোনো ব্যবস্থাই বহাল রাখতে চেয়েছিল। ফাঁস হওয়া নথি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ায় এই পুরোনো ব্যবস্থার রাজনীতি আবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণের সময় ভয়াবহ আগুন: চার সেনা নিহত, ১৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জনের …

আন্তর্জাতিক

সুদানে বাজারের কাছে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যে একটি বাজারের কাছে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার একজন চিকিৎসা সূত্র ও একজন প্রত্যক্ষদর্শী…

আন্তর্জাতিক

গাজায় পাঁচ লাখ মানুষের খাদ্যসহায়তা বন্ধ করছে জাতিসংঘের সংস্থা, তহবিল সংকটে কমছে রেশনও

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, তহবিলের ঘাটতির কারণে গাজায় প্রতি মাসে পাঁচ লাখ মানুষের সহায়তা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। সোমবার সংস…