উগান্ডায় রুয়ান্ডা সরকারের নির্বাসিত সমালোচকের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার, মাথা এখনো নিখোঁজ
রুয়ান্ডা সরকারের একজন নির্বাসিত ও সোচ্চার সমালোচককে উগান্ডার রাজধানী কামপালার কাছে শিরশ্ছেদ করা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দক্ষিণ-মধ্য উগান্ডায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
উগান্ডা পুলিশ সোমবার জানিয়েছে, তারা ‘প্রায় ৫০ বছর বয়সী একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের হত্যা’ তদন্ত করছে, ‘যার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মাথাটি উদ্ধার করা যায়নি’। পুলিশের মুখপাত্র কিতুমা রুসোকে সাংবাদিকদের এই কথা বলেছেন। স্বজনরা মরদেহটি রবার্ট কাবেরার বলে শনাক্ত করেছেন।
মরদেহটি পাওয়া গেছে কামপালার কাছে লুওয়ালা নামের একটি গ্রামে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি সম্ভবত ১৬ অক্টোবর গভীর রাতে কিংবা ১৭ অক্টোবরের ভোরে ঘটেছে।
রবার্ট কাবেরা ছিলেন একজন সাবেক সার্জেন্ট, যিনি কয়েক বছর আগে রুয়ান্ডা থেকে পালিয়ে উগান্ডায় বসবাস করছিলেন। সামরিক বাহিনীতে থাকার সময় তিনি সরকারের সমালোচক ছিলেন না, তবে পরে তিনি রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের ক্রমশ বিরোধী হয়ে ওঠেন।
কাবেরার একটি ইউটিউব চ্যানেল ছিল, ‘মেজর রবার্ট টিভি’, যার গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার। চ্যানেলটিতে তিনি বিরোধী নেত্রী ভিক্তোয়ার আঙ্গাবিরের প্রশংসা করে একটি গান প্রকাশ করেছিলেন — আঙ্গাবিরে রুয়ান্ডায় ভিন্নমতের এক বিরল কণ্ঠ, যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন।
উগান্ডায় ‘রবার্টের কারও সঙ্গে কোনো সমস্যা ছিল না’ বলে তার ভাই ভিক্টর আগাবা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা দেশ থেকে এসেছে... সেনাবাহিনী তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা তৈরি করেছিল। এটি ছিল হয়রানিমূলক অভিযান।’
রুয়ান্ডা ছাড়ার পর কাবেরাকে পলাতক ঘোষণা করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে দুর্নীতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়, যা তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
২০০০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রুয়ান্ডা শাসন করা প্রেসিডেন্ট কাগামের বিরোধীদের হত্যার অভিযোগ রুয়ান্ডা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রয়েছে। কাগামে ১৯৯৪ সালের গণহত্যার পর দেশটির নেতৃত্ব নেন, যেখানে প্রায় ৮ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন সংখ্যালঘু টুটসি সম্প্রদায়ের।
নির্বাসনে হত্যার শিকার হওয়া বিরোধী হিসেবে কাবেরাই প্রথম নন। ২০২১ সালে রুয়ান্ডা সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট রেভোকাত কারেমাঙ্গিঙ্গোকে মোজাম্বিকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যেখানে তিনি গোপনে একটি বিরোধী বাহিনীকে সমর্থন করছেন বলে সন্দেহ করা হতো।
একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় গুলি করে হত্যা করা হয় সোচ্চার বিরোধী সেইফ বাম্পোরিকিকে, আর সাবেক রুয়ান্ডা গোয়েন্দা প্রধান থেকে সমালোচকে পরিণত হওয়া প্যাট্রিক কারেগেয়াকে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় তার হোটেল কক্ষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
কারেগেয়ার সঙ্গে মিলে রুয়ান্ডা ন্যাশনাল কংগ্রেস (আরএনসি) বিরোধী দল সহ-প্রতিষ্ঠা করা সাবেক জেনারেল ফস্টিন কায়ুম্বা নিয়ামওয়াসা নির্বাসনে থেকে বেশ কয়েকটি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন।
কাবেরা হত্যার তদন্ত এখনো চলছে এবং তার মাথা উদ্ধার হয়নি। কারা এবং কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তদন্তে তা বেরিয়ে আসে কি না — সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।





