প্যানেলা চিনির গুঁড়োর আড়ালে ৭ দশমিক ৬ টন কোকেন, কার্টাহেনা বন্দরে এক দশকের সবচেয়ে বড় জব্দ
কলম্বিয়ার পুলিশ কার্টাহেনা বন্দরে নেদারল্যান্ডসগামী ৭ দশমিক ৬ টন কোকেন জব্দ করেছে। মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া এই খবর জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, জাতীয় পুলিশ কার্টাহেনা বন্দরে গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় কোকেনের চালান জব্দের সাফল্য পেয়েছে। বন্দরটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বড় মাদকের চালান ধরা পড়েনি।
পুলিশ জানিয়েছে, কোকেন লুকানো ছিল পাউডার-জাতীয় প্যানেলার ভেতরে। প্যানেলা হলো অপরিশোধিত আখের গুড়জাতীয় চিনি। পুলিশের মাদকবিরোধী অধিদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) সঙ্গে সমন্বিত অভিযানে এই চালান শনাক্ত করে।
দে লা এসপ্রিয়েয়া জানান, তাঁর সরকারের প্রথম ৭৫ দিনে নিরাপত্তা বাহিনী মোট ১৩২ টন কোকেন জব্দ করেছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬১০ কোটি মার্কিন ডলার।
প্রেসিডেন্ট তাঁর বার্তায় আরও লেখেন, মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। তাঁর ভাষায়, রাস্তায় পৌঁছানোর আগেই আটকে দেওয়া প্রতিটি ডোজ জীবন বাঁচায়, আর অপরাধী চক্রের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া প্রতিটি ডলার তাদের কাঠামোকে দুর্বল করে।
একই সময়ে আরেকটি ঘটনায় নেদারল্যান্ডসের পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিস (ওএম) ডাচ সংবাদমাধ্যম এডিকে নিশ্চিত করেছে, তাদের অনুরোধে কলম্বিয়ায় দুজন ডাচ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রসিকিউটররা গ্রেপ্তার দুজনের নাম জানিয়েছেন রনি ও উলরিখ হিসেবে। তবে কোনো কর্তৃপক্ষই এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে কার্টাহেনার জব্দের ঘটনার সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি।
ইউরোপে কোকেন পাচারের মাত্রা বোঝা যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ড্রাগ সংস্থার পরিসংখ্যানে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইইউতে ৩৩০ টন কোকেন জব্দ হয়েছিল, যা ২০২৩ সালের ৪১৯ টনের তুলনায় কম।
কার্টাহেনার এই জব্দ আবারও দেখিয়ে দিল, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপমুখী কোকেন পাচারে বন্দর ও বৈধ পণ্যের চালানকে কীভাবে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে চক্রগুলো। খাদ্যপণ্যের ভেতরে মাদক লুকানোর কৌশল শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
জব্দ করা কোকেনের উৎস, চালানটি কোন চক্রের এবং নেদারল্যান্ডসে এর গন্তব্য কার কাছে ছিল—এসব নিয়ে তদন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুই ডাচ নাগরিকের বিষয়ে কলম্বিয়া ও নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের দিকেও নজর থাকবে।
মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কলম্বিয়া সরকারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কোকেন জব্দ হচ্ছে, আর কার্টাহেনার এই অভিযান সেই ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে বড় সাফল্য।





