পূজার ছুটি আর বিচ কার্নিভালে জমজমাট কুয়াকাটা, দুই দিনে ৩ লাখ পর্যটকের প্রত্যাশা
শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটন করপোরেশন আয়োজিত ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের বর্ণাঢ্য বিচ কার্নিভাল। হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে; সব মিলিয়ে কুয়াকাটায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ।
তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লি, ঝাউবাগান, গঙ্গামতি, দুইশ বছরের পুরোনো সামুদ্রিক জাহাজ ও লাল কাঁকড়ার চরসহ সব পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি।
আগত পর্যটকরা সৈকতের জিরো পয়েন্টে হৈ-হুল্লোড় ও সমুদ্রে সাঁতার কেটে আনন্দ-উন্মাদনায় মেতেছেন। কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউবা প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
একই সৈকতের দিগন্তে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল আকর্ষণ তো রয়েছেই। সৈকতের জিরো পয়েন্টে বসানো হয়েছে ডিজিটাল জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিন, যেখান থেকে দেখা যাবে কুয়াকাটার আকর্ষণীয় স্পটগুলোর স্থির ও ভিডিও চিত্র।
কুয়াকাটার আকর্ষণ শুধু সমুদ্র সৈকতে সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবার পর্যটকদের ভ্রমণে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। রাখাইন পল্লি ও মিশ্রিপাড়া এলাকাতেও পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে।
রাখাইন মার্কেট, রাখাইনদের উৎপাদিত পণ্য, ঝিনুক ও আচার বিক্রেতা এবং স্থানীয় খাবারের দোকানিরা বাড়তি বিক্রির আশায় প্রস্তুতি নিয়েছেন। পর্যটক এলে শুধু হোটেল-রিসোর্টের ব্যবসা বাড়ে না; জীবিকার সুযোগ তৈরি হয় ছোট দোকানি, পরিবহনশ্রমিক, খাবার বিক্রেতা ও স্থানীয় গাইডদেরও। ফলে পূজার ছুটি ও কার্নিভাল ঘিরে প্রত্যাশা বড় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও।
২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত কুয়াকাটায় রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসার সম্ভাবনাকে ঘিরে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্যটকদের থাকার জন্য এখানে তিন শতাধিক হোটেলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ বাড়ির পরিবারও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। অতিথিরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, এসআরবি ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, ২২ অক্টোবর থেকে কার্নিভালের দুই দিনে প্রায় ৩ লাখ পর্যটক কুয়াকাটায় আসতে পারেন। এই একটি সংখ্যাই বলে দেয়, ছুটি ও কার্নিভাল মিলিয়ে কুয়াকাটা এখন কতটা বড় আয়োজনের মুখে।
দুর্গাপূজার ছুটি ও পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে কুয়াকাটায় এখন তাই বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য। পর্যটকের পদচারণায় জমজমাট হয়ে উঠেছে সৈকত, বাজার ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো — আর স্থানীয় অর্থনীতিতেও লেগেছে সেই উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া।





