জুলাইকে অস্বীকার করে আ. লীগের রাজনীতির সুযোগ নেই, ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দিলেন তথ্যমন্ত্রী পার্থ
জুলাইকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ নেই বলে কড়া মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তার ভাষায়, রাজনীতিতে ফিরতে হলে দলটিকে জুলাইকে স্বীকার করতে হবে, জুলাইয়ের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এরপর জনগণ সুযোগ দেবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের সংসদীয় আসন ভোলা-১-এর ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকেরহাট বাজারে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান পার্থ এ সময় স্থানীয় জনগণের খোঁজখবরও নেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৭ বছর ধরে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। অথচ এখন তারাই দেশে গণতন্ত্র নেই বলে অভিযোগ করছে। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচিত হয়ে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসার বিষয়ে পার্থ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দলটি অবগত নয়। প্রায় আড়াই বছর আগে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এরপর থেকে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই, হাতে গোনা কয়েকটি মিছিল ছাড়া।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আবার রাজনীতিতে ফিরতে চায়, তাহলে অনেক চিন্তাভাবনা করেই ফিরতে হবে। জুলাইকে অস্বীকার করে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি শর্তের কথা পুনরায় তুলে ধরেন, জুলাইয়ের ঘটনাবলির জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
দোষীদের সাজা হওয়ার পর বাংলাদেশের মানুষ যদি অনুভব করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার মতো, তাহলে সেটা সময়ই বলে দেবে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ফেরার প্রশ্নে চূড়ান্ত রায় তিনি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের অতীত বক্তব্যের সমালোচনা করে পার্থ বলেন, দলটি আগে বলত বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে। এখন তারা বলছে দেশে গণতন্ত্র নেই। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ বহির্বিশ্বে একটি নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ প্রচার করত বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে পূজা হবে না। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন। তিনি বলেন, নিজের চোখে বাংলাদেশের ইতিহাসে এত নির্বিঘ্নে ও এত সুন্দর নিরাপত্তার মধ্যে পূজা উদযাপন তিনি দেখেননি।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে দেশের বাইরে নেতিবাচক প্রচারণার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা শুরু হয়েছিল, আর ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম সেগুলো সম্প্রচার করার চেষ্টা করেছিল। তার দাবি, বাংলাদেশে এমন ন্যারেটিভ তৈরির কোনো সুযোগ নেই।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সময় লাগছে বলেও স্বীকার করেন বিজেপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলের ১৭ বছরে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়ে গেছে, সেখান থেকে ফিরে আসতে সরকারের সময় লাগছে। তার ভাষায়, মানুষ ভোট দিয়েছে, সরকার নির্বাচিত হয়েছে এবং বিরোধী দলও আছে। গণতন্ত্র আরও উন্নত হয়ে আরও ভালো জায়গায় যাবে বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার মতে, এখনো সেই সময় আসেনি। শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার দেশে ফেরার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়নি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হত্যা ও অত্যাচারের ট্রমা থেকে মানুষ এখনো বের হয়ে আসতে পারেনি, সেই ট্রমা ও মনস্তত্ত্ব রয়ে গেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার ঘোষণা বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন না তিনি।
গণসংযোগকালে এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ভোলা জেলা ও স্থানীয় পর্যায়সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বিভিন্ন মানুষের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন।
তথ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। সরকারের একজন মন্ত্রীর মুখে জুলাই স্বীকার, ক্ষমা ও দায়ীদের শাস্তির শর্তগুলো স্পষ্ট করে আসায়, দলটির প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি আগামী দিনগুলোতেও আলোচনায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।






