প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ বিদেশ সফর নিয়ে জবাব চায় মালাউইর বিরোধী দল, দেশে জ্বালানি-বিদ্যুৎ সংকটে বাড়ছে ক্ষোভ
মালাউইর প্রেসিডেন্ট পিটার মুথারিকার দীর্ঘ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেছে দেশটির বিরোধী দল। জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর অর্থনৈতিক দুর্ভোগের মধ্যে প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে বলেই বিরোধীদের অভিযোগ।
৮৬ বছর বয়সী মুথারিকা গত ৬ অক্টোবর মালাউই ছেড়েছেন। কর্মকর্তারা এই সফরকে ব্যক্তিগত সফর বলে বর্ণনা করেছেন। চলতি বছর এটাই তাঁর পঞ্চম দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, এবং প্রতিটি সফর নিয়েই জনসমক্ষে সীমিত তথ্যই দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী মালাউই কংগ্রেস পার্টি (এমসিপি) বলেছে, মালাউই এখন এক সংকটময় মুহূর্তে আছে এবং এই সময়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের বক্তব্য, নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে নাগরিকদের আশ্বস্ত করা জরুরি।
তবে তথ্যমন্ত্রী শ্যাডরিক নামালোম্বা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে কোনো নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়নি।
মুথারিকা গত বছর অক্টোবরে ক্ষমতায় ফিরেছেন। ওই নির্বাচনে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লাজারাস চাকওয়েরাকে পরাজিত করেন। এর আগেও তিনি ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মালাউই শাসন করেছেন।
তাঁর সর্বশেষ অনুপস্থিতি এমন এক সময়ে এল, যখন তাঁর ঘন ঘন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে জনসাধারণের নজরদারি ও আলোচনা বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানী লিলংওয়েতে সাংবাদিকদের এমসিপির প্রচার পরিচালক মোজেস কুনকুয়ু বলেন, বিরোধী দল প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কারণে ভ্রমণের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না। তারা চায়, দেশের বাড়তে থাকা সমস্যা নিয়ে ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেন আনসাহ জাতির উদ্দেশে কথা বলুন।
কুনকুয়ু বলেন, মালাউইর মানুষ জানতে চায়, দেশের কাজকর্ম আসলে কে পরিচালনা করছে। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ভ্রমণ করেছেন কি না তা নয়; বিষয়টি হলো মানুষ কষ্টে আছে এবং তারা আশ্বাস চায় যে কেউ দায়িত্বে আছে।
তিনি সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে বলেন, কীভাবে তারা চলমান জ্বালানি ঘাটতি, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা পেতে অসুবিধার মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে চায়।
তথ্যমন্ত্রী স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি সব সময়, সব জায়গা থেকেই দায়িত্বে থাকেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট সরকারের কাজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।
সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত সফর ব্যক্তিগতই। তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তারা এমন সমস্যাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে, যেগুলো তাদের আগের প্রশাসনের সময়েই তৈরি হয়েছিল।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই কারণেই মালাউইর মানুষ তাদের নয়, আমাদের সরকারে ভোট দিয়েছে। তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, তারা যে সমস্যাগুলো তৈরি করে ব্যর্থভাবে রেখে গেছে, সেগুলো সমাধান করার সময় যেন তারা মুখ বন্ধ রাখে।
বৃহস্পতিবার মুথারিকা জিম্বাবুয়েতে পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার অভিন্ন বাজার (কমেসা) সম্মেলনে মালাউইর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে বাণিজ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো সেই খবরও নাকচ করেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল মুথারিকা চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে গেছেন। সরকারের মুখ্য সচিব জাস্টিন সাইদি বলেন, প্রেসিডেন্ট দক্ষিণ আফ্রিকাতেই আছেন এবং জনগণকে যাচাই না করা তথ্য না ছড়াতে অনুরোধ জানান।
মুথারিকা আগেও তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। এমন দাবিকে তিনি হাস্যকর ও অর্থহীন বলে বর্ণনা করে বলেছেন, তিনি ভালো আছেন।
মালাউইতে বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র ঘাটতি চলছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হয়েছে এবং পরিবহন খরচ বেড়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে, আর অনির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ওষুধের ঘাটতি জনমনে হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট কবে ফিরবেন এবং সরকার সংকট মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেবে, সেটাই এখন মালাউইর আলোচনার কেন্দ্রে।





