হরমুজের কাছে ট্যাংকারে হামলার পর তেল ছড়িয়ে বন্ধ আমিরাতের সৈকত
ইরান যুদ্ধের মধ্যে উপসাগরীয় জলসীমায় একের পর এক জাহাজে হামলার ঘটনার মধ্যেই এবার ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুক্রবার দেশটি জানায়, তাদের উপকূলে একটি ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে উম্ম আল কুওয়াইনের সৈকত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘উম্ম আল কুওয়াইনের সৈকতে আঘাত হানা একটি ট্যাংকারের তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে’। উম্ম আল কুওয়াইন দুবাইয়ের উত্তরে অবস্থিত একটি আমিরাত।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিবেশগত প্রভাব সীমিত রাখতে দলগুলো অবিলম্বে তেল আটকানো, এলাকা ঘিরে ফেলা, পরিষ্কার ও প্রতিকারের কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে ওই আমিরাতের সৈকতগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে দেশটির উত্তরের বাসিন্দারা সামাজিক মাধ্যমে তেলের মতো অস্বাভাবিক গন্ধের কথা জানিয়ে আসছিলেন। দুবাইয়ের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকেও এমন অভিযোগ এসেছে। তেল ছড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর সেই গন্ধের কারণ নিয়ে ধারণা আরও স্পষ্ট হলো।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালির কাছে ঘন ঘন জাহাজে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কেন্দ্রে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই তেল ছড়ানোর ঘটনাটি উপসাগরীয় নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছিল, ৯ অক্টোবর আমিরাত উপকূলের কাছে একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে, যাতে আগুন ধরে যায়; পরে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওই জাহাজটি ছিল পানামার পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার ‘জেম নম্বর ২’। তেল ছড়ানোর ঘটনার সঙ্গে এই হামলার সম্পর্কের কথা বিবৃতিতে সরাসরি বলা না হলেও সময়ের মিল ঘটনাটিকে আলোচনায় এনেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যেত হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তেহরান ও ওয়াশিংটন—দুই পক্ষই প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে, আর ইরান বারবার জলপথটির দক্ষিণ অংশ ব্যবহারকারী মালবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এই সপ্তাহের শুরুতে ইরানের আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রণালির দক্ষিণ অংশে ওমান উপকূলের কাছে তেহরানের একতরফাভাবে নির্ধারিত ‘অননুমোদিত’ পথ ব্যবহারের চেষ্টাকারী ট্যাংকারগুলোই তাদের লক্ষ্য।
তবে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনের অধীনে হরমুজ দিয়ে ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার প্রযোজ্য; প্রণালি দিয়ে যাতায়াত সীমিত করা বা অনুমোদন দেওয়ার কোনো স্বীকৃত কর্তৃত্ব তেহরানের নেই বলেই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনে উল্লেখ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ বিন্দু থেকে আমিরাতের দূরত্ব মাত্র ৪০ থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইল। এই নৈকট্যের কারণেই প্রণালিকেন্দ্রিক প্রতিটি সামরিক ঘটনার ঢেউ সরাসরি এসে লাগে আমিরাতের উপকূলে—এবার যার প্রমাণ মিলল বন্ধ সৈকত আর ছড়িয়ে পড়া তেলে।
এখন নজর থাকবে পরিষ্কার অভিযান কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে এবং যুদ্ধের মধ্যে উপসাগরীয় জলপথে জাহাজ চলাচল কতটা নিরাপদ থাকে, তার দিকে। তেল ছড়ানোর পরিবেশগত ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতেও সময় লাগবে।






