‘সুস্থ’ হয়েও জনসমক্ষে আসছেন না মোজতবা খামেনি: নিরাপত্তা ঝুঁকির ব্যাখ্যা দিলেন ইরানি কূটনীতিক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং নিয়মিত রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনীতিক ও সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহী। নিরাপত্তা ও আততায়ী হামলার ঝুঁকির কারণেই তিনি সরাসরি জনসমক্ষে বা গণমাধ্যমে আসছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ওই কূটনীতিক। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করল তেহরান।
প্রেক্ষাপট হলো—গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা খামেনিও মারাত্মক আহত হন।
বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও গত আট মাসে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সম্প্রতি বাবার দাফনসহ প্রধান প্রধান কর্মসূচিতে তাঁর অনুপস্থিতি তাঁর শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দেয়।
তবে ইলাহী এসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘তিনি (মোজতবা খামেনি) সুস্থ আছেন এবং সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনার কাজ করছেন। গত সপ্তাহেই আমাদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর টানা সাত ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। আমাদের স্পিকারও তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, রাতে মাঝে মাঝে মোজতবা খামেনি সাধারণ পোশাকে রাস্তায় বের হন এবং জনগণের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মিছিলেও অংশ নেন। তবে নিরাপত্তা ও প্রাণনাশের ঝুঁকির কারণে তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসছেন না।
আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহী আরও জানান, বাবার দাফনের সময়ও মোজতবা খামেনি উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ দাফনে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, সেটিও নাকচ করলেন তিনি।
এর আগে ইরানের দায়িত্বশীল ও জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গিয়েছিল, হামলায় মুখমণ্ডল ও শরীরে আঘাত পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসাধীন থাকলেও পর্দার আড়াল থেকে দেশের সব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যুদ্ধকালীন সংকট, অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা ও সামরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা তাঁর হাতেই রয়েছে। তবে কিছু প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর অর্পণ করেছেন।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আট মাসের যুদ্ধে ইরানের নেতৃত্ব ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমানে কে দেশ চালাচ্ছে, তা কেউ জানে না। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানান, তাঁরা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করলেও ইরানের প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কাদের হাতে, তা অস্পষ্ট।
তবে মার্কিন এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং মার্কিন কর্মকর্তারা খুব ভালো করেই জানেন, কার সঙ্গে কথা বলতে হবে।
সব মিলিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য দুই মেরুতে। ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের নেতৃত্বের কেন্দ্র কোথায়, তা অস্পষ্ট; তেহরান বলছে, সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ আছেন, নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং সব নীতিগত সিদ্ধান্ত তাঁর হাত দিয়েই হচ্ছে—শুধু নিরাপত্তার কারণে তিনি ক্যামেরার সামনে আসছেন না।
মোজতবা খামেনি কবে জনসমক্ষে আসবেন, তা এখনো অজানা। তাঁর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতিই এই জল্পনার সবচেয়ে বড় জবাব হবে। তত দিন পর্যন্ত তাঁর অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবিই চলতে থাকবে বলে মনে হচ্ছে।





