নির্বাচনের পর কংগ্রেসে নেতৃত্বের ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’: চার শিবিরেই অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচনের পর শুরু হতে যাচ্ছে নেতৃত্ব বদলের এক বড় খেলা। ক্যাপিটল হিলে একে তুলনা করা হচ্ছে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলার সঙ্গে—সংগীত থামলে যাঁরা আসন পাবেন না, তাঁরা ছিটকে পড়বেন।
আগামী কয়েক সপ্তাহে কংগ্রেসে চারটি শিবিরে নেতৃত্ব নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের শীর্ষ নেতা বেছে নেবেন; একই কাজ করবেন সিনেটের দুই দলের সদস্যরাও। ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেস বসলে পুরো প্রতিনিধি পরিষদ স্পিকার নির্বাচন করবে, আর সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নিজেদের নেতা ঠিক করবে।
কোন দল কোন কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তার ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের পরদিনগুলোতে নেতৃত্বের আসন নিয়ে তীব্র দৌড়ঝাঁপ শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে বর্তমান নেতৃত্ব দল—স্পিকার মাইক জনসন, সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা স্টিভ স্ক্যালিস ও হুইপ টম এমার—সম্ভবত বহাল থাকবে। কিন্তু দলটি পরিষদ হারালে শুরু হবে দোষারোপ আর আসন নিয়ে তীব্র লড়াই।
এর কারণ, সংখ্যালঘু অবস্থায় একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পদ থাকে তিনটির বদলে দুটি। তখন প্রশ্ন উঠবে—জনসন কি সংখ্যালঘু নেতার আসনে সরে যাবেন? তিনি কি সেই পদ চান? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তাঁকে সেই পদে চান, নাকি অন্য কাউকে?
বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নতুন কংগ্রেসে প্রতিনিধি পরিষদের শীর্ষ রিপাবলিকান কে হবেন, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ট্রাম্প কাকে চান তার ওপর। স্ক্যালিস সংখ্যালঘু নেতা হবেন, নাকি সংখ্যালঘু হুইপে নেমে যাবেন; এমার কোথায় জায়গা পাবেন—এসব প্রশ্নও ঘুরছে।
এরই মধ্যে জিম জর্ডান প্রতিনিধি পরিষদের শীর্ষ রিপাবলিকান হতে আগ্রহী বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। তিনি মাসের পর মাস রিপাবলিকান প্রার্থী ও সদস্যদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন এবং বছরের পর বছর দলের পক্ষে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং রক্ষণশীল হাউস ফ্রিডম ককাসের সঙ্গেও তাঁর শক্ত সম্পর্ক রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের শরতে সাবেক স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থিকে সরানোর পর স্ক্যালিস, এমার ও জর্ডান—তিনজনই স্পিকার হওয়ার দৌড়ে হেরেছিলেন। জর্ডান তো ফ্লোর ভোটে একাধিকবার হেরে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নই হারান। এর পর থেকে তিনি বিরোধীদের সঙ্গে সেতুবন্ধ তৈরিতে কাজ করেছেন।
ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে চিত্র তুলনামূলক সহজ। দলটি প্রতিনিধি পরিষদ জিতলে সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিসকে মার্কিন ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হিসেবে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক হবেন সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা এবং ককাস চেয়ারম্যান পিট আগুইলার সম্ভবত হবেন সংখ্যাগরিষ্ঠ হুইপ।
কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা পরিষদ জিততে ব্যর্থ হলে তাঁদের শীর্ষ নেতারা টিকে থাকবেন কি না, তা অনিশ্চিত। দলটির মধ্যে প্রত্যাশা এতটাই উঁচু যে, রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশেও হারলে সাধারণ সদস্যরা নতুন নেতৃত্বের দাবি তুলতে পারেন।
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন ট্রাম্পের কাছে জনসনের মতো রাজনৈতিক প্রভাব রাখেন না। প্রেসিডেন্ট সিনেটের সময়সূচি ও পাস করাতে চাওয়া বিষয়ে দাবি তুলতে শুরু করেছেন, যার অনেকগুলোই থুন প্রতিহত করেছেন। রিপাবলিকানরা সিনেট হারালে এই টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।
সিনেটে সম্ভাব্য শূন্যতায় এগিয়ে থাকা নামটি সংখ্যাগরিষ্ঠ হুইপ জন ব্যারাসোর। তিনি প্রেসিডেন্টের তুলনামূলক কাছের বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া নজরে রয়েছেন সিনেটর কেটি ব্রিট, জন কেনেডি ও রিক স্কট—স্কট দুই বছর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতার দৌড়ে থুনের কাছে হেরেছিলেন।
ডেমোক্র্যাট পক্ষে সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারের বয়স ও রাজনৈতিক ধরন নিয়ে সমালোচনা থাকলেও সাফল্যের যুক্তি তাঁর পক্ষে শক্ত। ডেমোক্র্যাটরা সিনেট উল্টে দিলে তিনি সম্ভবত সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা হবেন। অবসরে যাওয়া সংখ্যালঘু হুইপ ডিক ডারবিনের উত্তরসূরি হিসেবে সিনেটর ব্রায়ান শাটজের প্রার্থিতা এখন পর্যন্ত একমাত্র নিশ্চিত বিষয়; শুমার সরে গেলে শাটজ শীর্ষ ডেমোক্র্যাট হওয়ার দৌড়েও আসতে পারেন।
নেতৃত্ব নির্বাচন সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগে হয়। কোন কক্ষ কোন দলের নিয়ন্ত্রণে যাবে, তা নির্ধারণে দেরি হলে এই নির্বাচনও পিছিয়ে যেতে পারে। তবে সংগীত ইতিমধ্যে বাজতে শুরু করেছে—এবং সবাই আসনের জন্য জায়গা করে নিতে ব্যস্ত।





