প্যারিসে বিক্ষোভে পুলিশের ওপর চাপ, এনএফএলের প্রথম ম্যাচ নিয়ে ট্রাম্প বললেন—স্থগিত করলেই ভালো হতো
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে প্যারিসে জাতীয় ফুটবল লিগের (এনএফএল) প্রথম ম্যাচ আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, লিগ চাইলে ম্যাচটি স্থগিত করতে পারত।
পিটসবার্গ স্টিলার্স ও নিউ অরলিন্স সেন্টসের ম্যাচটি রোববারই মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে, নাগরিক অস্থিরতা সত্ত্বেও। অন্যদিকে একই দিনে অনুষ্ঠেয় প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) ফুটবল ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে।
একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণবিক্ষোভ, চলমান নাগরিক অস্থিরতা এবং ওই অঞ্চলে ফ্রান্সের প্রথম এনএফএল ম্যাচের কারণে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় প্যারিস পুলিশ পিএসজি ম্যাচটি স্থগিতের অনুরোধ করেছিল।
এনএফএল আউটকিক ও ফক্স নিউজ ডিজিটালকে ইমেইলে দেওয়া জবাবে বলেছে, পিএসজি ম্যাচের বিষয়টি স্টিলার্স-সেন্টস ম্যাচ সরানোর কোনো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেনি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এনএফএল ‘সম্ভবত ম্যাচটি স্থগিত করতে পারত।’
শুক্রবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘মনে হচ্ছে আগামীকাল ফ্রান্সে খারাপ একটি দিন হতে যাচ্ছে, তাই এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়। আমি বলতাম, এনএফএল সম্ভবত ম্যাচটি স্থগিত করতে পারত... ফ্রান্স সত্যিই বিপদে আছে।’
এরপর ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের নীতির দিকে আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, ‘বাম দিকে গেলে এটাই হয়। খুব বন্ধুভাবাপন্ন নয় এমন দেশগুলো থেকে সীমাহীন সংখ্যক মানুষকে নিজের দেশে ঢুকতে দিলে এটাই হয়।’
এনএফএল এই সপ্তাহে একাধিকবার জোর দিয়ে বলেছে, নাগরিক অস্থিরতার মধ্যেও রোববারের ম্যাচটি খেলা ও দর্শকদের উপস্থিতির জন্য নিরাপদ থাকবে। তবে স্টিলার্স ওই এলাকায় তাদের একটি ভক্ত অনুষ্ঠান বাতিল করেছে।
লিগের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুই ঘণ্টার এক বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ম্যাচের নিরাপত্তা, ম্যাচের ভেন্যু স্তাদ দ্য ফ্রান্সের প্রস্তুতি এবং ফ্রান্সে ফ্ল্যাগ ফুটবলের প্রসার।
প্যারিসের বিক্ষোভের আয়োজকরা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, পুলিশের জারি করা বিক্ষোভ নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করার পর একটি প্রশাসনিক আদালত তা বাতিল করে দিয়েছে। প্যারিস প্রিফেকচার আগে বলেছিল, সপ্তাহান্তে মুখোশধারী তরুণদের একটি দল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানো, দোকান লুট ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার পর রাস্তায় সহিংসতার ঝুঁকির কারণে নিষেধাজ্ঞাটি প্রয়োজন ছিল।
আয়োজকরা পুলিশের একটি নথিতে সই করেছেন, যাতে বলা হয়েছে সহিংসতার ঝুঁকির কারণে বিক্ষোভটি স্থির অবস্থানে থাকবে। অর্থাৎ মিছিল আকারে এগোনোর বদলে এক জায়গায় অবস্থানের শর্ত মেনে নেওয়া হয়েছে।
এই সপ্তাহের শুরুতে স্টিলার্সের ডিফেন্সিভ এন্ড টিজে ওয়াটের স্ত্রী ড্যানি ওয়াটপ্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ম্যাচটি কেন সরানো হচ্ছে না। তিনি লিখেছিলেন, ‘বলুন তো, এটা কীভাবে যুক্তিসঙ্গত হয়???’
বৃহস্পতিবার এনএফএল আউটকিককে জানায়, শুক্র ও শনিবারের জন্য নির্ধারিত তাদের নিজস্ব এনএফএল ফ্যান হাউস অনুষ্ঠান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই হবে। বুধবার এনএফএল কমিশনার রজার গুডেল বলেছিলেন, তিনি ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন এবং সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ম্যাচ এগিয়ে নেওয়া নিয়ে কথা বলেছেন। রুবিও আউটকিককে বলেছেন, ফ্রান্সে মার্কিন দূতাবাস মনে করে ম্যাচটি ‘ঠিকঠাকই হবে’। ফলে ট্রাম্পের সংশয় সত্ত্বেও লিগ ও দূতাবাসের অবস্থান হলো—ম্যাচ নির্ধারিত সময়েই হবে।





