জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক, আর্থিক লেনদেন না করার সতর্কবার্তা দলের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের কবলে পড়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বার্তা পাঠানো হলে সেটির ভিত্তিতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলমের সই করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ বিষয়টি জানানো হয়। বিবৃতির মাধ্যমেই দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নেতার অ্যাকাউন্ট বেহাত হওয়ার খবর সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, একটি অসাধু চক্র অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ আইডিটির নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে নিয়ে নিয়েছে। অর্থাৎ অ্যাকাউন্টটি এখন আর তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই; সেটি ব্যবহার করে অন্য কেউ বার্তা পাঠাতে পারে।
এ অবস্থায় তার সব শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। অনুরোধ জানানো হয়েছে, ওই নম্বর বা অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুরোধ বা বার্তা এলে তা যেন এড়িয়ে চলা হয়।
বিবৃতিতে সবচেয়ে জোর দেওয়া হয়েছে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে: কোনো অবস্থাতেই যাতে ওই অ্যাকাউন্টের বার্তার ভিত্তিতে কোনো অর্থ লেনদেন না করা হয়। হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট থেকে সাধারণত পরিচিতজনদের কাছে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে অর্থ চাওয়া হয়—এই ঝুঁকির কথাই দলটির সতর্কবার্তায় প্রতিফলিত হয়েছে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এবং সংসদ সদস্য। একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত যোগাযোগ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা তার পরিচিত মহলে বিভ্রান্তি ও প্রতারণার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেই দলটি দ্রুত বিবৃতি দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছে।
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো বার্তা প্রাপকের কাছে আসল ব্যক্তির পাঠানো বলেই মনে হয়। ফলে আত্মীয়, সহকর্মী বা শুভানুধ্যায়ীরা যাচাই না করে অনুরোধে সাড়া দিলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন—এ ধরনের ঘটনায় সতর্ক থাকাই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।
দলটির বিবৃতিতে অ্যাকাউন্টটি উদ্ধারের বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতির কথা জানানো হয়নি। অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে ধরে নেওয়া যায়; তত দিন পর্যন্ত ওই নম্বর থেকে আসা সব বার্তাকে সন্দেহের চোখে দেখার পরামর্শই দিয়েছে দলটি।
এই ঘটনা জনপ্রতিনিধি ও পরিচিত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার প্রশ্নটিকেও আবার সামনে এনেছে। অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিক অনুরোধ এলে সরাসরি অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করে যাচাই করা এবং অর্থ পাঠানোর আগে নিশ্চিত হওয়া—এই সাধারণ সতর্কতাগুলোই এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়।
আপাতত দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্কবার্তাই এই ঘটনায় সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক তথ্য। ওই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে কারও কাছে সন্দেহজনক বার্তা বা অর্থের অনুরোধ গেলে তা এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে দলীয় কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





