সাজেক সড়ক সচল ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে খাগড়াছড়িতে সমন্বয় সভা, অবরোধকারীদের সঙ্গে ধাপে ধাপে আলোচনার প্রস্তাব
সাজেক সড়ক সচল করা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে খাগড়াছড়ি রিজিয়নে অনুষ্ঠিত এই সভায় সাজেকের সার্বিক নিরাপত্তা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অবরোধে টানা তৃতীয় দিনের মতো অচল সাজেক পরিস্থিতিতে এই সভাকে সংকট নিরসনের প্রথম সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদ, সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতি, বাস-ট্রাক ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতিসহ স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় তুলে ধরা হয়, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর বারবার বাধার কারণে সাজেক সড়ক বন্ধ থাকায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জীবিকা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত বন্ধ থাকায় পাহাড়ি জনপদে চাপ বাড়ছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থার কারণে স্থানীয় জনমনে যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে, তা যেকোনো সময় ব্যাপক আকার ধারণ করে সাম্প্রদায়িক সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই সতর্কবার্তাই সভার সবচেয়ে গুরুতর পর্যবেক্ষণ হিসেবে উঠে আসে।
আলোচনা শেষে বিদ্যমান সংকট নিরসনে অংশীজনদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি সমন্বিত প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। প্রস্তাবগুলোর মূল লক্ষ্য—সহিংসতা নয়, আলোচনার মাধ্যমে সড়ক খুলে দেওয়া ও পর্যটন স্বাভাবিক করা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সংকট নিরসনে এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও বেসামরিক প্রশাসনের মাধ্যমে সড়ক অবরোধকারী আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধাপে ধাপে আলোচনার প্রস্তাব জানানো হবে। একবারে সব দাবি নিয়ে না বসে পর্যায়ক্রমে আস্থা তৈরির পথ বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সভায় একই সঙ্গে সাজেক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্য মদদ দেওয়ার অভিযোগে কারবারি অ্যাসোসিয়েশনকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। অর্থাৎ আলোচনার পাশাপাশি দায়ীদের জবাবদিহির প্রশ্নটিও সভায় গুরুত্ব পায়।
প্রেক্ষাপটে রয়েছে টানা অবরোধ। তিন দফা দাবিতে সাজেকে তৃতীয় দিনের সড়ক অবরোধ চলছে এবং পর্যটনকেন্দ্রটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা গেছে।
অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি থেকে দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা, আটকা পড়েছেন পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা, আর পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়ছে।
অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, চালক ও স্থানীয়রা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন বক্তারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। ফলে এখন একদিকে চলছে প্রশাসনের আলোচনার উদ্যোগ, অন্যদিকে রয়েছে আলটিমেটামের সময়সীমার চাপ।
এখন সবার নজর ধাপে ধাপে আলোচনার প্রস্তাব অবরোধকারীদের কাছে পৌঁছায় কি না এবং তাতে সাড়া মেলে কি না, তার দিকে। আলোচনা এগোলে সাজেক সড়ক সচল ও পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হতে পারে; ব্যর্থ হলে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।





