…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আন্তর্জাতিক › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আন্তর্জাতিক

শুকিয়ে আসছে ইরানের তেল-আয়, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থামতে পারে রাজস্বের স্রোত

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন নৌ-অবরোধ কড়া হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে আসছে ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয়ের উৎস। অবরোধ এলাকার বাইরে ট্র্যাক করা যায় এমন ইরানের ভাসমান তেলের মজুত এখন শূন্যে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার। সংস্থাটির হিসাবে, বকেয়া অর্থ পরিশোধ মেটাতে মেটাতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ তেহরানের অপরিশোধিত তেল থেকে রাজস্ব পুরোপুরি শুকিয়ে যেতে পারে।

তবে এই আয় হারালেই যে ইরানের সামরিক খাত সঙ্গে সঙ্গে অর্থসংকটে পড়বে, তা নয়। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান সামরিক ব্যয় সুরক্ষিত রেখে বেসামরিক খাতে কাটছাঁট করতে পারে; তখন মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ ইরানিদের ক্রয়ক্ষমতাই ক্ষয় হবে সবচেয়ে বেশি।

সংখ্যার হিসাবটা উদ্বেগজনক। ইউরেশিয়া গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইরান ও জ্বালানি বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু এবং ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ মিয়াদ মালেকির মতে, তেল সরাসরি ইরানের সরকারি বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ জোগান দেয়।

মালেকির হিসাব আরও বড়: পরোক্ষ আয়সহ ধরলে তেল ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য থেকে আসে শাসনের মোট রাজস্বের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ।

ব্রু জানান, বছর শুরুতে ইরান প্রতিদিন গড়ে ১৭ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির প্রত্যাশা করেছিল, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫৪ ডলার দরে। প্রকৃত রপ্তানি সেই লক্ষ্যের নিচেই থেকেছে, যদিও তেলের বেশি দাম তেহরানকে কিছুটা আর্থিক স্বস্তির মজুত গড়তে সাহায্য করেছিল।

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের ভাসমান মজুতে ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, যা দিয়ে নতুন রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও কিছুদিন বিক্রি চালিয়ে যাওয়া গেছে। সেই মজুত এখন শেষ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে, অবরোধ ইতিমধ্যে তেহরানকে অন্তত ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের তেল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে।

ক্রেতারা সাধারণত সরবরাহের এক-দুই মাস পর অর্থ পরিশোধ করেন; ভাসমান মজুত শেষ হওয়া আর ডিসেম্বরে রাজস্ব থেমে যাওয়ার মধ্যে এই সময়ের ব্যবধানই তার ব্যাখ্যা। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দাবি, দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের হাতে ‘বাণিজ্য করার মতো কিছুই’ থাকবে না।

তবে ডিসেম্বরের সময়সীমা মানেই হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য হয়ে যাওয়া নয়। মালেকির ভাষায়, ‘ডিসেম্বরের সময়সীমাটা আসলে নগদ প্রবাহের একটা বিঘ্ন, রাষ্ট্রের ধস নয়।’ তাঁর মতে, তেহরান এখন পর্যন্ত হঠাৎ সরকারি বেতন বন্ধ বা ব্যাপক ঘাটতি তৈরি না করে মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল হয়ে পড়া রিয়ালের ওপর চাপ সামলাচ্ছে; ফলে ইরানিদের ক্রয়ক্ষমতা ধাপে ধাপে কমছে।

তবু বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ জোগান দেওয়া আয়ের ধারা হারালে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। ব্যয় কমানো, বেশি ঋণ নেওয়া কিংবা বড় ঘাটতি, পথ যেটাই হোক, ভর্তুকি, পেনশন ও সরকারি কর্মসূচিগুলো ঝুঁকিতে পড়বে; আর ঘাটতি বাড়লে ইতিমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি আরও উসকে উঠতে পারে। ব্রু বলেন, আগামী বছর সরকারি ব্যয় অনেকটাই কমে যাবে বলে ইতিমধ্যে ধারণা করা হচ্ছে, আর বাজেটের বড় অংশ মেটানো হবে ঋণ ও ঘাটতি দিয়ে।

সামরিক খাত অবশ্য এই কাটছাঁট থেকে তুলনামূলক সুরক্ষিত থাকতে পারে। ব্রুর মতে, অসামরিক ব্যয় ব্যাপকভাবে কমলেও সামরিক ব্যয় বহাল থাকবে, যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির কারণে তা বাড়তেও পারে। ইরান ইতিমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ স্থাপনা সম্প্রসারণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষতি মেরামতে অর্থ খরচ করছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে তেল বাণিজ্যের সরাসরি যোগও আছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত বছর জানিয়েছিল, তেহরান সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বরাদ্দ রাখে, যার পরিকল্পিত মূল্য বছরে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি। সামরিক সংস্থাগুলো বরাদ্দ পাওয়া তেল বিদেশে বিক্রি করে সেই অর্থ নিজেরাই ব্যবহার করতে পারে। মালেকির মতে, এই বিক্রির অর্থে সরঞ্জাম, রাসায়নিক ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশ কেনা হয় এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া হয়।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আবার আনুষ্ঠানিক বাজেটের বাইরে চোরাচালান, কালোবাজারি ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর নেটওয়ার্ক থেকেও আয় করে। ব্রুর পর্যবেক্ষণ, নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের বেসরকারি অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বাহিনীর অর্থনৈতিক প্রভাব বরং বেড়েছে।

তার পরও ইরানের হাইড্রোকার্বন আয় একেবারে শূন্য হয়ে যাবে না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। ট্রাক ও রেলে স্থলপথে এবং কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অল্প পরিমাণ তেল চলাচল করতে পারে; পরিশোধিত পণ্য ও পেট্রোকেমিক্যালও অবরোধের লক্ষ্য সমুদ্রপথের অপরিশোধিত তেল বাণিজ্যের বাইরের পথে চলাচল করতে পারে। ব্রুর ভাষায়, ট্র্যাকযোগ্য তেল শূন্যে নামলেও রপ্তানি পুরোপুরি শূন্য হবে না, পরিমাণটা হবে অনেক কম।

দুই বিশেষজ্ঞের মতেই, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে ইরানি ট্যাংকার আবার পারস্য উপসাগর ছাড়তে পারবে এবং চিত্র বদলে যেতে পারে। চুক্তি বা অবরোধ শিথিল না হলে আগামী বছরজুড়ে আর্থিক চাপ বাড়তেই থাকবে। আসল পরীক্ষা আসতে পারে মার্চে, যখন ইরানের নতুন অর্থবছর শুরু হবে এবং নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়া তেল আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের পরিকল্পনা মেলাতে হবে তেহরানকে। ব্রুর সতর্কবার্তা, তখন বাজেট ঘোষণাকে ঘিরে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, এমনকি সংকটও দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

মক্কা-মদিনা অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার দাবি সৌদির, ‘বড় মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিল হুথিরা

সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা। ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ছো…

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেন নিয়ে কেন এত সতর্ক মিসর: ছয় দশক আগের যুদ্ধের স্মৃতিই টানছে পেছনে

সৌদি আরবকে হুথি হামলা থেকে রক্ষায় মিসরের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা জোরালো হতেই কায়রোর ভেতরে ফিরে এসেছে ছয় দশক আগের এক যুদ্ধের স্মৃতি। ইয়েমেনে স…

আন্তর্জাতিক

‘সততা শেখাতে পারব না’: কর্মীদের চুরিতে ধসে পড়ছে আফ্রিকার ছোট ব্যবসা

দুই সপ্তাহের ছুটিতে ইউরোপে বেড়াতে গিয়েছিলেন কেনিয়ার জনপ্রিয় খাদ্য-বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা দ্যাট গার্ল বোইনা। এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ইনস্টাগ্রামে …

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনের তিন দিন আগে তেল আবিবে নেতানিয়াহুবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ, ৭ অক্টোবরের জবাবদিহির দাবি

ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। শনিবার তেল…