মক্কার কাছে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা ঠেকাল সৌদি প্রতিরক্ষা, রিয়াদ বিমানবন্দর আংশিক চালু
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় রাজ্যের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করা হয়, যার পর ব্যাপক বেসামরিক প্রতিরক্ষা সতর্কতা জারি হয় এবং আন্তর্জাতিক নিন্দা আসে।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা জানিয়েছে, প্রতিহত করা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মক্কা প্রদেশের জেদ্দা, তায়েফ, রাবিগ ও ওয়াদি আল-মুঘাম্মাস এলাকায় পড়েছে।
রাজধানী রিয়াদের আকাশের ওপর দিয়েও একটি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়। রোববার দুপুর নাগাদ খামিস মুশাইত লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করে জোট বাহিনী। তায়েফ ও জাজানে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজে। সব মিলিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইভি এই হামলাকে পবিত্র স্থানগুলোর পবিত্রতার গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অনুভূতিতে উসকানি বলে বর্ণনা করেছেন। মক্কায় রয়েছে কাবা ও মসজিদুল হারাম। হুতিরা অবশ্য সৌদি আরবের মুসলিম পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করার কথা অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজ্যটি হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার একের পর এক ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে।
এর মধ্যেই রিয়াদ শনিবার গভীর রাতে ঘোষণা দেয়, বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রোববার থেকে টার্মিনাল ২ দিয়ে পুনরায় চালু হবে, আর টার্মিনাল ১ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য নির্ধারিত থাকবে। হুতি হামলার ঢেউয়ের পর এই বিমানবন্দরের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল; ১০ অক্টোবরের এক হামলায় ১৩ জন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছিলেন।
বাংলা গণমাধ্যমের খবরেও রিয়াদ বিমানবন্দর আংশিক চালুর ঘোষণার বিষয়টি উঠে এসেছে; সেখানে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর চালুর ঘোষণার পাশাপাশি হুতিরা সতর্কবার্তাও দিয়েছে।
রোববার ভোরে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বেসামরিকদের রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিরাপদ নয়, কারণ এটি একটি সামরিক লক্ষ্য; বিমান সংস্থা, কর্মী ও যাত্রীদের প্রতি সতর্কতা নতুন করে জানানো হচ্ছে। তিনি সৌদি তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে সাতটি অভিযানের কথাও ঘোষণা করেন।
ইয়েমেনে যুদ্ধ চলছে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে, যখন হুতি বাহিনী রাজধানী সানা দখল করে এবং সরকারকে দক্ষিণে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির পর আবার লড়াই তীব্র হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান থেকে আসা একটি হুতি প্রতিনিধিদলকে ঠেকাতে সরকারি বাহিনী সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পর লড়াই বেড়ে যায়। এরপর হুতিরা সেপ্টেম্বরে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে মোখাসহ ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল দখল করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী ৫ অক্টোবর হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
রোববার ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হুতি অবস্থানে ৭৩৬টি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ৩০৭ জন নিষ্ক্রিয় হয়েছে এবং ৬৮টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সামরিক উত্তেজনার এই আবহে তাইজ শহরের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে রাসদ অর্গানাইজেশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস। সংগঠনটি জানায়, ৪ অক্টোবর থেকে হুতি অবরোধের মুখে থাকা তাইজে প্রায় ১,১১০ জন কিডনি রোগী ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের সংকটের ঝুঁকিতে আছেন; সেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি ডায়ালাইসিস সেশন প্রয়োজন, পাশাপাশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ১৯২ জন রোগী ও ইনকিউবেটরে ১৫৪টি শিশু রয়েছে।
সব মিলিয়ে, মক্কা প্রদেশের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘটনা ও রিয়াদ বিমানবন্দর ঘিরে পাল্টাপাল্টি হুমকি এই সংঘাতকে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।


