…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
রাজনীতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে চায় বিএনপি, তবে প্রধান নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি ও বিকল্প আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে চায় বিএনপি, তবে প্রধান নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি ও বিকল্প আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটির নির্বাচনি ইশতেহারেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থাকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে।

তবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি ও বিচার বিভাগকে যুক্ত করার বিষয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগ ও সরকার গঠনের বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটিতে আলোচনা চলছে, যদিও কোনো পদ্ধতিই এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, কর্মপরিধি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে; তবে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, এর গঠন প্রক্রিয়া ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে।

আলোচনায় আসা বিকল্প প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংসদের উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তাকে কেন্দ্র করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ব্যবস্থা; উচ্চকক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ সৃষ্টি করে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব দেওয়া; এবং সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে অন্য ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের বিধান রাখা যায় কি না, তাও আলোচনায় এসেছে। সব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কমিটির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে এবং এ বিষয়ে সবার লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জুলাই জাতীয় সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে; প্যানেলে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার ও দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধিকে রাখার কথা বলা হয়েছে। প্যানেল ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পরের ধাপে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের যুক্ত করে বিকল্প পদ্ধতিতে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের প্রস্তাবও সনদে রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি বলে বিএনপি মনে করে। আওয়ামী লীগ সরকার এই প্রক্রিয়া বাতিল করে দেশের নির্বাচনি পদ্ধতিকে ধ্বংস করে গেছে; জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিষয়ে সরকার আন্তরিক। তবে বিএনপি কোন প্রক্রিয়ায় এটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়, তা এখনই চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই এ প্রক্রিয়ায় এগোতে চায় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রয়োজনে অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে বলে তিনি বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা বরাবরই বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। ১৯৯১ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করে; তখনও সংবিধানে তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা ছিল না। ১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচনের পর নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন জোরালো হয়।

প্রধান বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ওই বছরের ২৬ মার্চ সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস হয়, ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন এবং বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়; সেই সরকারের অধীনে ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগ নিয়ে বিরোধ তীব্র হলে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ও সংকট আরও গভীর হয়। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পরদিন ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়; সেই সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে বিএনপির একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রকাশ্যে এসেছিল ২০১৩ সালে। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে ১০ জনকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন; এতে সরকারপক্ষ ও বিরোধী দল পাঁচজন করে মনোনীত করবে এবং দুই পক্ষের সম্মতিতে একজন প্রধান উপদেষ্টা হবেন। ওই প্রস্তাব দলটির বর্তমান ফর্মুলা নয়, তবে অতীতের বিকল্প প্রস্তাবের একটি নজির হিসেবে এখনও আলোচিত।

প্রধান নিয়োগে ঐকমত্য না হলে বিকল্প কী হবে, উপদেষ্টারা কীভাবে নিয়োগ পাবেন, সরকারের মেয়াদ কত দিন থাকবে এবং নির্বাচন আয়োজনের বাইরে এর ক্ষমতা কতটুকু থাকবে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট সমাধান এখনও আসেনি। বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ ও বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট হলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জামায়াতের, সিইসিকে লিখিত অভিযোগ ও মাগুরার প্রসঙ্গ

আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুলিশের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাং…

নোট অব ডিসেন্ট বদলাতে চাইলে কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব দিন: সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াত বলছে আহ্বান অবান্তর
রাজনীতি

নোট অব ডিসেন্ট বদলাতে চাইলে কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব দিন: সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াত বলছে আহ্বান অবান্তর

জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে (ভিন্নমত) পরিবর্তন চাইলে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে এসে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছ…

জনগণের রায়ের প্রতি অবমাননায় সরকারকে অবৈধ বলতে হবে: মিরপুরে নাহিদ ইসলাম
রাজনীতি

জনগণের রায়ের প্রতি অবমাননায় সরকারকে অবৈধ বলতে হবে: মিরপুরে নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জনগণের ৭০ শতাংশের রায়ের প্রতি অবমাননা করায় বর্তমান সরকারকে অবৈধ বলতে হবে। সরকার অর্ধেক ব…

নুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন গণঅধিকার পরিষদের শরীয়তপুর জেলা সম্পাদক খবির হোসেন
রাজনীতি

নুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন গণঅধিকার পরিষদের শরীয়তপুর জেলা সম্পাদক খবির হোসেন

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্…