টাঙ্গাইলে জীবিত মানুষকে মৃত সাজিয়ে মিথ্যা হত্যা মামলা: তিনজনের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড

টাঙ্গাইলে জীবিত একজন মানুষকে মৃত সাজিয়ে এবং অন্য একটি লাশকে নিজের স্বামী দাবি করে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করার অপরাধে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলার সিনিয়র দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন টাঙ্গাইল সদর থানার ওমরপুর গ্রামের মো. সুরমান আলীর স্ত্রী মোছা. নূরজাহান খাতুন, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার সটিবাড়ী কদমতলী এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে মো. সুরমান আলী ওরফে সোলায়মান আলী এবং সদর থানার ওমরপুর গ্রামের মো. সিরাজ মণ্ডল।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিকুর ইসলাম রিপন জানান, দীর্ঘ বছর আগে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে মিথ্যা ও বানোয়াট বিরোধ দেখিয়ে এবং অন্য একটি লাশকে সুরমান আলীর লাশ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিপির ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে সেই মামলার ভয় দেখিয়ে ও জবরদস্তি করে বাদীর নিকট থেকে জমি লিখে নেওয়া হয় এবং লোকজনকে হয়রানি করা হয়।
তদন্ত ও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রমাণিত হয় যে, যাকে মৃত বলে দাবি করা হয়েছিল সেই সুরমান আলী কুড়িগ্রাম জেলায় জীবিত ও সশরীরে বসবাস করছেন।
আদালত তিনজন আসামিকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর নয়জন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায়ের সময় প্রধান দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুরমান আলী ওরফে সোলায়মান আলী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ মণ্ডল ও মোছা. নূরজাহান খাতুন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।




