‘স্টার ট্রেক’-এর চেকভ ওয়াল্টার কেনিগ মারা গেছেন ৯০ বছর বয়সে

‘স্টার ট্রেক’ ধারাবাহিকে পাভেল চেকভ চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা ওয়াল্টার কেনিগ মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর প্রতিনিধি হলিউড রিপোর্টারকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
কেনিগ মারা গেছেন নর্থ হলিউডে নিজের বাড়িতে। সে সময় তাঁর পাশে ছিলেন তাঁর মেয়ে ও ভাগনি। অভিনেতার সঙ্গে কাজ করা এজেন্সি গ্যালাক্টিক প্রোডাকশনসের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকারি ম্যাকগিনিস ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ম্যাকগিনিসের পোস্ট অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘বার্ধক্য’ বলা হয়েছে; এর বাইরে আর কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি।
ম্যাকগিনিস লিখেছেন, ‘আজ আমরা ওয়াল্টার কেনিগের প্রয়াণে শোক জানাচ্ছি। তাঁর প্রতিভা, আন্তরিকতা আর অবিস্মরণীয় অভিনয় বিশ্বজুড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভক্তদের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।’ পোস্টে আরও বলা হয়েছে, পর্দার বাইরেও অসংখ্য সম্মেলন ও ভক্তদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতে তিনি সবার সঙ্গে সদয় আচরণ করেছেন, রসবোধ দেখিয়েছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
কেনিগের ‘স্টার ট্রেক’ সহশিল্পী জর্জ তাকেই সোমবার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার মন ভারাক্রান্ত।’ তাকেই জানান, ১৯৬০-এর দশকে ‘এন্টারপ্রাইজের ব্রিজে’ তাঁদের প্রথম দেখা হয়েছিল এবং এরপর ছয় দশক ধরে তাঁরা বন্ধু ছিলেন। ২০০৮ সালে তাকেইয়ের বিয়েতে কেনিগ ছিলেন তাঁর বেস্ট ম্যান।
তাকেই লিখেছেন, ‘ওয়াল্টার ছিলেন চেকভের চেয়েও বেশি কিছু। তিনি ছিলেন একজন লেখক, একজন শিক্ষক, একজন চিন্তাশীল মানুষ এবং একজন বিশ্বস্ত বন্ধু।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘যেসব ভক্ত এত বছর ধরে তাঁকে ভালোবেসেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। তিনিও আপনাদের ভালোবাসতেন। ভালো থেকো, প্রিয় বন্ধু। স্থির পথে এগিয়ে চলো।’
এনপিআর-এর অনুষ্ঠান ‘বুলসআই’-এর উপস্থাপক জেসি থর্নও ব্লুস্কাইতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি তথ্যসূত্র হিসেবে তাঁর বন্ধু ও প্রয়াত অভিনেতার মেয়ে ড্যানিয়েল কেনিগের কথা উল্লেখ করেছেন।
কেনিগের জন্ম শিকাগোতে, তবে তিনি বেড়ে উঠেছেন ম্যানহাটনে। তাঁর বাবা-মা ছিলেন লিথুয়ানিয়ান অভিবাসী। অভিনয়জীবন শুরু হয় ১৯৬২ সালে ‘কমব্যাট!’ ধারাবাহিকে একজন প্রহরীর নামহীন চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে।
‘স্টার ট্রেক’-এ তিনি যোগ দেন দ্বিতীয় মৌসুমের শুরুতে। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে প্রচারিত ৫০টি পর্বের মধ্যে ৩৬টিতে তিনি রুশ চরিত্র চেকভের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
এরপর ১৯৭৯ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে মুক্তি পাওয়া ধারাবাহিকটির প্রথম সাতটি প্যারামাউন্ট চলচ্চিত্রেও তিনি একই চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৭ সালে অনলাইনে প্রকাশিত দুই পর্বের ‘রেনেগেডস’ ধারাবাহিকেও তিনি চেকভ চরিত্রে ফিরে আসেন। সবশেষে ২০২৩ সালে অ্যানিমেটেড ধারাবাহিক ‘স্টার ট্রেক: পিকার্ড’-এর একটি পর্বে তিনি চেকভের কণ্ঠ দেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি কেনিগ লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি ‘দ্য পাওয়ারস অব ম্যাথিউ স্টার’, ‘ফ্যামিলি’, ‘ল্যান্ড অব দ্য লস্ট’ ও ‘দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক’সহ কয়েকটি ধারাবাহিকের পর্ব লিখেছেন। ২০১০ সালের বিজ্ঞানকল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ইনএলিয়েনেবল’ তিনি লিখেছেন, প্রযোজনা করেছেন এবং তাতে অভিনয়ও করেছেন; ছবিটিতে রিচার্ড হ্যাচও অভিনয় করেছিলেন।
কেনিগের স্ত্রী ছিলেন অভিনেতা জুডি লেভিট। তাঁরা দুজনে তিনটি ‘স্টার ট্রেক’ চলচ্চিত্রে এবং ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত চলা বিজ্ঞানকল্পকাহিনি ধারাবাহিক ‘ব্যাবিলন ৫’-এ একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। ১৯৬৫ সাল থেকে একসঙ্গে থাকা এই দম্পতির বিচ্ছেদ ঘটে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে লেভিটের মৃত্যুতে; তখন তাঁর বয়স ছিল ৮৩ বছর।
কেনিগের ছেলে অ্যান্ড্রু এবিসির সিটকম ‘গ্রোয়িং পেইনস’-এ রিচার্ড ‘বোনার’ স্ট্যাবোন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিনি ২০১০ সালে ৪১ বছর বয়সে মারা যান। ওয়াল্টার কেনিগ রেখে গেছেন তাঁর মেয়ে ড্যানিয়েল কেনিগকে, যিনি একজন অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার।



