ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের তিন সপ্তাহ পরই লাতিন আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন পোপ লিও

পোপ লিও চতুর্দশ তাঁর পরিকল্পিত উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরে যাচ্ছেন। ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের তিন সপ্তাহ পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর ভ্রমণে কোনো চিকিৎসাগত বাধা নেই। সোমবার ভ্যাটিকান এ সফরের কথা নিশ্চিত করেছে।
সফরটি হবে ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ভ্যাটিকানের প্রেস অফিস জানিয়েছে, চিকিৎসক দলের অনুকূল মূল্যায়নের সঙ্গে মিল রেখে পোপের সেরে ওঠার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হয়েছে, পোপ ইতিমধ্যে ঠিক করা উচ্চাভিলাষী সফরসূচিই বজায় রাখছেন; ঘোষিত কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তনের কথা জানানো হয়নি।
গত ১৩ অক্টোবর শল্যচিকিৎসকেরা পোপের ফুসফুসের সেই অংশটি (লোব) অপসারণ করেন, যেখানে পরে ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারযুক্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়া নডিউলটি ছিল। অস্ত্রোপচারেই নিশ্চিত হয়, তাঁর অ্যাডেনোকারসিনোমা হয়েছে, যা ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, এটি ছিল লিওর ১৭ মাসের পোপত্বের প্রথম বড় স্বাস্থ্যঘটনা। ভ্যাটিকানে ফিরে আসার পর থেকে লিও ধীরে ধীরে তাঁর কাজকর্ম আবার শুরু করেছেন, পাশাপাশি সেরে ওঠা ও বিশ্রামের সময়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি তাঁর কর্মসূচি সাজাচ্ছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
পোপের চিকিৎসক লুইজি কারবোনে বলেছেন, দক্ষিণ আমেরিকা সফরে তাঁর যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসাগত কারণে বাধা নেই। এই সফরে রয়েছে প্রায় এক ডজন ফ্লাইট এবং উঁচু এলাকায় দুটি হেলিকপ্টার যাত্রা।
লিও তাঁর সেরে ওঠার সময় পাওয়া প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে অঞ্চলে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন, সেখানে ফিরতে তিনি আগ্রহী।
সোমবার লিও বলেন, ‘আমি সেই মহাদেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি, যেখানে আমি আমার জীবনের অনেক মুহূর্ত কাটিয়েছি। এই যাত্রা যেন আমাদের একে অপরের কাছে হৃদয় খুলে দেওয়ার, ভাইবোন হিসেবে আমাদের ঐক্য শক্তিশালী করার এবং আনন্দের সঙ্গে সুসমাচার প্রচারের অঙ্গীকার নতুন করে নেওয়ার উপলক্ষ হয়।’
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, এই সফর পোপের জন্য উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরুর স্থানীয় গির্জাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার, বিশ্বাসীদের উৎসাহ দেওয়ার এবং বিশ্বাস, আশা ও শান্তির বার্তা প্রচারের সুযোগ তৈরি করবে।




