‘রেকর্ড ভাঙা জোয়ারের’ শঙ্কায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্যার প্রস্তুতি, জরুরি অবস্থা নিউপোর্ট বিচে

এ সপ্তাহে সম্ভাব্য ‘রেকর্ড ভাঙা জোয়ারের’ মধ্যে টানা কয়েক দিনের বন্যার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় জনপদগুলো। বাসিন্দাদের উচ্চ জোয়ারের সময় সৈকত এড়িয়ে চলতে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে সমুদ্র থেকে আরও দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
জাতীয় আবহাওয়া সেবা (এনডব্লিউএস) সতর্ক করেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সান দিয়েগো ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে উল্লেখযোগ্য উপকূলীয় বন্যা হতে পারে, যা সড়ক বন্ধ করে দিতে এবং বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্লাবিত করতে পারে।
উত্তরে, সান লুইস ওবিসপো কাউন্টি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় এলাকায় ‘সামান্য থেকে মাঝারি’ মাত্রার উপকূলীয় বন্যা হতে পারে, যেখানে জোয়ার ৮ ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে।
সান দিয়েগোর এনডব্লিউএস কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘উচ্চ জোয়ারের সময় সৈকত এড়িয়ে চলুন, স্বাভাবিকের চেয়ে সমুদ্র থেকে আরও পেছনে থাকুন (ঢেউ সৈকতের অনেক ওপরে পর্যন্ত ছুটে আসবে), পাথরের দেয়াল বা জেটি থেকে দূরে থাকুন, এবং এ সপ্তাহে বন্যাপ্রবণ সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখুন।’
অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ার আসার এক সপ্তাহেরও বেশি আগে অরেঞ্জ কাউন্টির শহর নিউপোর্ট বিচ বন্যার প্রস্তুতির জন্য স্থানীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মীরা এলাকাজুড়ে অবকাঠামো পরিদর্শন, সৈকতের বাঁধ মজবুত করা এবং বালির বস্তাসহ অন্য সরঞ্জাম বসানোর কাজ করছেন। নিউপোর্ট বিচ বিনামূল্যে বালির বস্তা দিচ্ছে এবং বাসিন্দাদের নিজ নিজ সম্পত্তির ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো পরিদর্শনের পরামর্শ দিয়েছে।
নিউপোর্ট বিচের সিটি ম্যানেজার সেইমোন জুরজিস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এল নিনো ও কেলভিন তরঙ্গের কারণে এলাকাটিতে সমুদ্রের পানির স্তর ইতিমধ্যে প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২২ ইঞ্চি বেশি রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেড় ফুট হয়তো খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, কিন্তু আমাদের মতো উপকূলীয় জনপদে এর মানে হতে পারে পানি সমুদ্র-দেয়ালের নিচে থাকা আর পানি রাস্তা, গ্যারেজ ও বাড়িতে ঢুকে পড়ার মধ্যে পার্থক্য, বিশেষ করে বছরের সবচেয়ে উচ্চ জোয়ারগুলোর কোনোটির সময়।’
এই মাসেই এলাকাটিতে চরম আবহাওয়া দেখা গেছে—বন্যায় শহরের রাস্তা ডুবে গেছে এবং বড় ঢেউ আঘাত করেছে সৈকতসংলগ্ন বাড়িতে। ক্রান্তীয় ঝড় র্যাচেলের অবশিষ্টাংশ ক্যালিফোর্নিয়ায় ধ্বংসের চিহ্ন রেখে গেছে; এতে বাড়িঘর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একটি বোর্ডওয়াক ধ্বংস হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে একটি ঐতিহাসিক এল নিনো চলমান থাকায় এ শীতে ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র ঝড়ের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।




