হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে বিধিনিষেধ: এবার মামলা করলেন সাধারণ নাগরিকেরা
হোয়াইট হাউস কভার করা সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে এবার মামলা করেছেন একদল সাধারণ নাগরিক। সোমবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়।
মামলাকারীদের ভাষ্য, হোয়াইট হাউসের সংবাদ সরবরাহকারী মাধ্যমগুলো যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিত, সেই তথ্যে প্রবেশাধিকার তাঁরা হারাচ্ছেন। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সব মামলাকারীই প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে স্বাধীন প্রতিবেদনের জন্য হোয়াইট হাউস প্রেস কর্পসের ওপর নির্ভর করেন এবং সেই প্রতিবেদন তাঁরা গবেষণা, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা বা অধিকারভিত্তিক কাজে ব্যবহার করেন।
এই মামলাটিকে প্রথম এমন মামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেটি নিষেধাজ্ঞার শিকার সংবাদমাধ্যমগুলো করেনি; করেছে যাঁরা সেই সংবাদ গ্রহণ করেন এবং কাজে নির্ভর করেন, তাঁরা।
মামলাকারীদের মধ্যে আছেন একজন মানবাধিকারকর্মী, একজন গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক, একজন হাইস্কুল শিক্ষক, একজন আইনবিষয়ক সাংবাদিক এবং একজন শিক্ষার্থী সাংবাদিক। প্রত্যেকেই যুক্তি দিয়েছেন, কাজের জন্য তাঁদের নিরপেক্ষ ও বৈচিত্র্যময় গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রয়োজন।
নিউইয়র্ক সিটির হাইস্কুলের সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক পিটার শ্মিট-নোয়ারা এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের ওপর বিধিনিষেধ তাঁদের সরকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে বঞ্চিত করছে বলে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, তাঁর শিক্ষার্থীরা সরকারে কী ঘটছে তা জানার এবং মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কথা শোনার অধিকার রাখে বলেই তিনি মামলায় যোগ দিয়েছেন।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশে বিধিনিষেধ সেইসব দেশে পরিচিত চিহ্ন, যেখানে নেতারা কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে তিনি দেখেছেন, স্বাধীন সাংবাদিকদের শাস্তি দেওয়ার সরকারি চেষ্টা স্বৈরতন্ত্রের উত্থানের পূর্বলক্ষণ।
এর আগেও হোয়াইট হাউস থেকে পছন্দ নয় এমন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করার ট্রাম্পের চর্চা নিয়ে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ হয়েছে। গত মাসে তিনি সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা দেন। পরে একজন ফেডারেল বিচারক ওই আদেশকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেন, এটিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষাকারী প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন এবং প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওই রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প সেই প্রতিবেদন খারিজ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুম থেকে সরিয়ে ১৯৩৩ সাল থেকে সেখানে থাকা একটি সুইমিং পুল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন। তবে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমকে ব্রিফিং রুম থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা তিনি এখনো ভাবছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন এবং সেই জায়গাটি খুব প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করবেন।




