লুলার পুনর্নির্বাচনের পর ধস ব্রাজিলের মুদ্রায়: রিয়াল কমল ১২ শতাংশ, থামল শেয়ারবাজারের লেনদেন
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার অপ্রত্যাশিত পুনর্নির্বাচনের পর দেশটির মুদ্রা রিয়ালের বড় পতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেশি ব্যয় ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এই পতন ঘটে।
সোমবার স্পট লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর কমে ১২ শতাংশ। একই দিনে বোভেসপা শেয়ার সূচকের ফিউচার্স কমে প্রায় ১৫ শতাংশ।
ব্রাজিলের শেয়ারবাজার ৩০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখে। বোভেসপা সূচক আগের বন্ধ দরের তুলনায় ১০ শতাংশ পড়ে গেলে সার্কিট-ব্রেকার নামের সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়। এতে চলতি মাসের শুরুতে ডানপন্থীদের জয়ের প্রত্যাশায় তৈরি হওয়া ঊর্ধ্বগতি উল্টে যায়।
এই মাসের শুরুতে প্রথম পর্বের ভোটে ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারো এগিয়ে ছিলেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। প্রথম পর্বে তাঁর এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় পর্বে লুলার জয় বিনিয়োগকারীদের অনেকের হিসাবের বাইরে ছিল।
সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির অ্যাডজাংক্ট সিনিয়র ফেলো র্যাচেল জিয়েম্বা বলেন, রিয়ালের তীব্র পতনে তিনি অবাক নন; ব্যবসায়ীরা বলসোনারোর জয় ও কঠোর আর্থিক নীতির ধারণার ওপর রাখা বাজি গুটিয়ে নিচ্ছেন।
জিয়েম্বা বলেন, বলসোনারোর নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকার করাও কিছু আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। তবে জয়ের ব্যবধানের আকার দেখে মনে হয়, ফল টিকে থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিনিয়োগকারীরা ধরে নিচ্ছেন, লুলার সময়ে দেশীয় ব্যয় বাড়বে এবং সুদের হার বেশি থাকবে। তবে শক্তিশালী পণ্য রপ্তানি আয় রিয়ালকে সহায়তা দিতে পারে বলেও জিয়েম্বা উল্লেখ করেন।
এর বিপরীতে, প্রথম পর্বের আগের স্তরের তুলনায় শুক্রবার শেয়ারবাজার প্রায় ৭ শতাংশ ওপরে বন্ধ হয়েছিল এবং রিয়াল মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৫ শতাংশ শক্তিশালী ছিল। সুদের হারের ফিউচার্স বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
লুলার সামনে এখন ব্রাজিলের বাড়তে থাকা ঋণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক কর্মসূচি ও বিনিয়োগ রক্ষা করতে হবে তাঁকে। বিনিয়োগকারীরা দেখছেন, তাঁর ধীরগতির আর্থিক পদ্ধতি ঋণের খরচ কমাতে পারবে কি না।
লুলার দলের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাজেট উদ্বৃত্ত তৈরি করা। তাতে সুদের বিলের একটি অংশ মেটানো যাবে এবং নতুন ঋণের প্রয়োজন কমবে। তবে সরকারি ঋণ ইতিমধ্যে জিডিপির ৮২ শতাংশের বেশি, আর পেনশনসহ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ব্যয়ের কারণে সাশ্রয়ের জায়গা সীমিত।
মেরিডিয়ান ১৩০৫ ক্যাপিটালের গবেষণা প্রধান দিভ্যা সিঙ্গারাভেলু বলেন, লুলার নীতিতে ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়েছে, তবে তা দেখতে কেমন হবে, তার বিশদ তিনি জানাননি।
এখন সবার নজর লুলা কাকে অর্থমন্ত্রী বেছে নেন, তার দিকে। সেই পছন্দ তাঁর আর্থিক পদ্ধতির দিক সম্পর্কে ইঙ্গিত দেবে বলেই বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন।


