ইথিওপিয়ার ওরোমিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলায় ৬০ জনের বেশি নিহত, জানাল গির্জা কর্তৃপক্ষ

ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে খ্রিস্টানদের ওপর ধারাবাহিক হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দেশটির অর্থোডক্স গির্জা জানিয়েছে। গির্জার এক কর্মকর্তা শিরকা জেলার তিনটি এলাকায় চালানো এই হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও হামলা থামাতে পারেনি।
এক বাসিন্দা, যাঁর ৭৫ বছর বয়সী বাবা এই হামলায় নিহত হয়েছেন, ঘটনাটিকে অতর্কিত হামলা বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসি আমহারিককে তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিলাম, আগে থেকে কিছুই জানতাম না। তারা আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছিল।’ প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে।
ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো গির্জার পবিত্র সিনডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় ২০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে হামলার জন্য কাউকে দায়ী করা হয়নি।
একজন স্থানীয় কর্মকর্তা হামলার জন্য নতুন গঠিত বিদ্রোহী জোট ‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’-কে দায়ী করেছেন, যার মধ্যে ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ) রয়েছে। ওএলএ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে এর আগে এ ধরনের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে।
আঞ্চলিক সরকার বলেছে, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে অর্থোডক্স গির্জা বলেছে, সম্প্রতি খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বেড়েছে এবং ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করে’। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গির্জা জানায়, নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার উদ্বেগ জানানো হলেও ‘এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি’।
বেসরকারি সংস্থা ইথিওপিয়ান হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, আগের চার বছরে ওই এলাকায় হামলায় ৪৫৮ জন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বারবার স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে, বিশেষ করে ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো গির্জার অনুসারীদের, লক্ষ্য করেছে এবং এসব হামলাকে ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
সরকার এর আগেও এসব হামলার জন্য ওএলএ-কে দায়ী করেছে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ বলেছেন, বেসামরিক মানুষ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে সহিংসতা দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার অংশ। ওরোমো জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর অধিকারের জন্য লড়াই করছে বলে দাবি করা এই গোষ্ঠীটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আগের প্রতিবেদনগুলোতে ওই এলাকায় মুসলিমদের ওপর হামলার তথ্যও উঠে এসেছে। বিবিসির সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথা বলা বাসিন্দারা এই সহিংসতাকে জাতিগত ও ধর্মীয়—উভয় প্রকৃতির বলে বর্ণনা করেছেন।
ইথিওপিয়ার জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ খ্রিস্টান, যাঁদের বেশিরভাগই অর্থোডক্স, আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম।




