…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আন্তর্জাতিক › খবর
আন্তর্জাতিক

ইরানে কট্টরপন্থীদের চাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির অভিশংসন চায় পায়দারি ফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরানে কট্টরপন্থীদের চাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির অভিশংসন চায় পায়দারি ফ্রন্ট
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির আলোচনাবিরোধী কট্টরপন্থীরা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ার মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে ইরানকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এই কট্টরপন্থী অংশটি হলো ‘ফ্রন্ট অব ইসলামিক রেভল্যুশনারি স্ট্যাবিলিটি’, যারা ‘পায়দারি ফ্রন্ট’ নামেও পরিচিত। অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে ইরানকে বেরিয়ে যেতে তারা দেশটির পার্লামেন্ট ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল) কাছে আহ্বান জানিয়েছে। এই পদক্ষেপকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে। পায়দারি ফ্রন্ট বলেছে, এসব সামরিক উদ্যোগ নিতে হবে ‘যত দ্রুত সম্ভব’।

ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইরানের কট্টরপন্থীদের অনমনীয় বার্তার সর্বশেষ উদাহরণ এটি। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এই অভিযোগ তুলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ইরান এবং আরব দেশগুলোর অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

গত আট মাসে যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় ক্ষমতার লড়াইও চলেছে। এর এক পক্ষে আছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো উদারপন্থী ও মধ্যপন্থীরা। তাঁরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে। অন্য পক্ষে আছেন পায়দারি ফ্রন্টের কট্টরপন্থীরা। তাঁরা আলোচনা চান না।

ইরানের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে বাঁচাতে দ্রুত সংঘাতের অবসান চায় উদারপন্থী শিবির। আর কট্টরপন্থীরা মনে করে, ওয়াশিংটন শুধু শক্তির ভাষাই বোঝে। তাই ইরানের দাবি মেনে যুক্তরাষ্ট্র নতি স্বীকার না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে বলে তারা মনে করে।

দেশের ভেতরের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র দেখা যায় ইরানের বড় শহরগুলোর চত্বরে। ২০০ দিন ধরে সেখানে রাতে সমাবেশ করছেন কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। শুরুতে এসব সমাবেশের মাধ্যমে মানুষ সরকারের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতেন এবং বিনা উসকানিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রতিবাদ করতেন। সময়ের সঙ্গে এসব জমায়েত সুসংগঠিত রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে। সেখানে কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ শেষ করার জন্য উদারপন্থীদের চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করছেন রাজনৈতিক কর্মীরা।

কট্টরপন্থীদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে ‘আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়—আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চাই’ এবং ‘শত্রুর সঙ্গে আলোচনা মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থেকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তেহরানে ফেরার সময়ও তাঁরা বিক্ষোভ করেন। ওই অধিবেশনে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে কূটনীতির সুফলও তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্টের কাছে নিজেদের ‘আলোচনাবিরোধী’ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উপায় হিসেবে ওই বিক্ষোভকে দেখা হয়।

রাজনৈতিক কর্মীদের এই পরিসরের বাইরেও গোষ্ঠীটির যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। তেহরানের নগর প্রশাসন ও পার্লামেন্টে কট্টরপন্থীদের শক্ত অবস্থান আছে। ধর্মীয় বক্তা ও শোকগাথা পাঠকারীদের মধ্যেও তাঁদের প্রভাব রয়েছে। শিক্ষাঙ্গন ও গণমাধ্যমেও তাঁদের অবস্থান শক্ত।

পায়দারি ফ্রন্টের ঘনিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য আমির হোসেন সাবেতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কিংবা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে না। তিনি বলেন, ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে শত্রু সরে আসেনি। তারা আবার অতর্কিত হামলা চালানোর উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছে। যাঁরা ভেবেছিলেন আলোচনা করে যুদ্ধ ঠেকানো যাবে, কিংবা আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, তাঁরা বিশ্ব কীভাবে চলে, তা বোঝেননি। বিশ্ব শুধু শক্তির ভাষাই বোঝে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আমির হোসেন যে রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্য, তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অভিশংসনের প্রস্তাব পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর নিউইয়র্ক সফরের পর এ প্রস্তাব আনা হয়। বিদেশি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়া ‘ফৌজদারি অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করতে একটি আইনও বিবেচনা করছে ইরানের পার্লামেন্ট।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিশংসনের প্রস্তাব নিয়ে পার্লামেন্টে প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। তবে সরকারপন্থী রাজনৈতিক শিবির বর্তমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছে। পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক দাভুদ হেশমতি বলেছেন, কিছু লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, ইরানের সরকার উৎখাতের বড় লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে মার্কিন বাহিনী। এর বদলে তারা তুলনামূলক ছোট কিছু লক্ষ্য বেছে নিয়েছে। এতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বেড়েছে।

হেশমতি আরও বলেন, যাঁরা বলছেন হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া যাবে না, তাঁরা মনে করেন যুদ্ধ শেষ হওয়া উচিত নয়। তবে এই যুদ্ধ থেকে তাঁরা কী ফল আশা করেন, তা ব্যাখ্যা করেন না। তিনি বলেন, যুদ্ধ ঠেকাতে হলে আগে সামরিক পদক্ষেপের সব বিকল্প যাচাই করতে হবে। আলোচনা ও কূটনৈতিক চুক্তি এসব বিকল্পের মধ্যে পড়ে এবং যুদ্ধের চেয়ে সব সময় এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভির মতে, দেশের ভেতরে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী। তবে ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন তাদের প্রভাব সীমিত। তিনি বলেন, ইরানের কট্টরপন্থীরা কোনো প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তি নন। তাঁরা সুসংগঠিত। ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর গভীরে তাঁদের অবস্থান। সমর্থকদের সংগঠিত করা, রাজনৈতিক আলোচনার গতিপথ নির্ধারণ এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সামর্থ্যই তাঁদের শক্তি।

মোর্তাজাভি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে এক করে দেখা উচিত নয়। যুদ্ধ, শান্তি ও আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ইরানের নেতৃত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এই ক্ষমতাধরদের মধ্যে আছেন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। কট্টরপন্থীরা কূটনীতিকে জটিল করে তোলার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা রাখেন, তবে তা থামিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা তাঁদের আছে বলে মনে হয় না।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিরোধিতা করে রাজপথে সমাবেশ চলবে। টেলিভিশনেও এ নিয়ে অনুষ্ঠান চলবে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিশংসন শুনানির দিন নির্ধারণে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধ শেষ করতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। এসবই ইঙ্গিত দিচ্ছে, উদারপন্থীরা এখনো এমন এক শক্তি, যাঁদের উপেক্ষা করা যায় না।

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরও খবর

আন্তর্জাতিক

হেবরনে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০ বছরের কারখানা: ইসরায়েলি অভিযানে ধ্বংসের মুখে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের ফার্শ আল-হাওয়া এলাকায় নিজের কারখানার ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুফিয়ান আল-কাওয়াসমি; ইসরায়েলি বুলডোজারের ন…

ইথিওপিয়ার ওরোমিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলায় ৬০ জনের বেশি নিহত, জানাল গির্জা কর্তৃপক্ষ
আন্তর্জাতিক

ইথিওপিয়ার ওরোমিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলায় ৬০ জনের বেশি নিহত, জানাল গির্জা কর্তৃপক্ষ

ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে খ্রিস্টানদের ওপর ধারাবাহিক হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দেশটির অর্থোডক্স গির্জা জানিয়েছে। গির্জার এক কর্মকর…

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, দেওবন্দে পাঁচ হাজার প্রতিনিধির সম্মেলন আগামীকাল
আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, দেওবন্দে পাঁচ হাজার প্রতিনিধির সম্মেলন আগামীকাল

পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্প্রতি ২৫২টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুরো ভারতে বিপুলসংখ্যক মাদ্রাসার অনুমোদন নেই বলে বি…

আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে অঙ্গ হারানো মানুষের নতুন লড়াই: কৃত্রিম পা, ফুরিয়ে আসা সহায়তা

রিকার্ডো কনত্রেরাসের নতুন পা-টি রাখা একটি কাঠের কাউন্টারের ওপর। জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলা কেঁপে ওঠার চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ২৪ বছর বয়সী …