কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রোর বিরুদ্ধে ৪৮ নারীকে প্রেসিডেন্টের পার্টির জন্য কাজে লাগানোর অভিযোগ, অস্বীকার পেত্রোর

কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে ৪৮ জন নারীকে আটকে রেখে প্রেসিডেন্টের পার্টির জন্য শোষণের অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওই নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ‘শুধু প্রেসিডেন্ট পেত্রোর সঙ্গে থাকার জন্য’।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্সির প্রশাসনিক বিভাগের (ডিএপিআরই) পরিচালক কার্লোস আন্দ্রেস রিওস দাবি করেছেন, পেত্রো এমন একটি ব্যবস্থা তদারকি করেছিলেন, যেখানে সার্ভিস চুক্তি ব্যবহার করে নারীদের ‘পদ্ধতিগতভাবে’ নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিনিময়ে সরকারি বেতনের অর্থ পাঠানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে কংগ্রেসের শুনানিতে রিওস বলেন, ‘আমরা কলম্বিয়ার জনগণের কাছে প্রমাণ করে দেব, কাসা দে নারিনিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে কীভাবে সাজানো, সংগঠিত ও তৈরি করা হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুর জন্য—শাসন করার জন্য নয়, বরং সেখানে প্রতিদিন পার্টি করা, নারীদের আনার জন্য।’ কাসা দে নারিনিও হলো বোগোটায় প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ।
পেত্রো রোববার এক বিবৃতিতে অস্বীকার করেছেন যে তিনি যৌন সম্পর্ক পেতে সরকারি পদ ব্যবহার করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে কোনো চুক্তি দিইনি। এমন কিছু করলে নিজের ওপরই বমি পেত।’
পেত্রোর যুক্তি, তাঁর দপ্তর ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জন্য রাষ্ট্র-অর্থায়িত সহায়তা কর্মসূচি দিয়েছে, তবে তা যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিকে চুক্তি দেওয়ার থেকে মৌলিকভাবে আলাদা। তিনি বলেন, ‘দরিদ্র নারী, নারী পরিবারপ্রধান এবং যৌনকর্মে যুক্ত নারীদের ভিন্ন জীবনের সুযোগ পেতে সাহায্য করা—যেমনটা আমি সুনির্দিষ্ট ও অর্থায়িত কর্মসূচির মাধ্যমে জনপ্রশাসনে করে দেখিয়েছি—তা যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে চুক্তি দেওয়ার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কোনো ব্যক্তি কখনো বলতে পারবে না যে আমি এমন কিছু করেছি।’
বিবৃতিতে পেত্রো স্বীকার করেছেন, তরুণ বয়সে তিনি মাঝে মাঝে এমন জায়গায় গিয়েছিলেন যেখানে যৌনকর্ম চলত। তিনি বলেছেন, সেই অভিজ্ঞতার জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং কয়েক দশক আগেই সেসব জায়গায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, সেখানে গিয়ে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক তাঁর কাছে নোংরা মনে হয়েছিল এবং সেখানে যাওয়া নারী-পুরুষদের দুঃখ তিনি অনুভব করেছিলেন।
এই অভিযোগগুলো এসেছে পেত্রোর বিরুদ্ধে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, জাতীয় বাজেট নিঃশেষ করা ও মাদক পাচার নিয়ে বৃহত্তর সমালোচনার মধ্যে। পেত্রো এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, যার পেছনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়াসহ কয়েকজন রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
পেত্রো বলেছেন, ‘আমাকে দুর্নীতিবাজ ও মাদক পাচারকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টার পর—আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিদের প্রকাশ করা উদ্দেশ্য—তারা দুর্নীতি বা মাদক পাচারের একটিও প্রমাণ হাজির করতে পারেনি, কারণ আমি সরকারি কোষাগার থেকে এক পেসোও চুরি করিনি এবং দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, তাদের রাজনৈতিক সম্পর্কগুলো ফাঁস করেছি।’




