পশ্চিম তীরে ঢুকতে বাধা ব্রিটিশ রাজনীতিকসহ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলকে, সেতুতে ৯ ঘণ্টা আটক

ব্রিটিশ রাজনীতিকসহ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলকে পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিদলটি জলপাই তোলার মৌসুমে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মুখে থাকা ফিলিস্তিনি শিশু, কৃষক ও সমাজনেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিল।
২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলটিতে চারজন নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। সদস্যরা এসেছিলেন ফ্রান্স, স্পেন, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস, হল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।
দলটিতে ছিলেন নরউইচ সাউথের এমপি ক্লাইভ লুইস, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির এমপি লারা বার্ড, স্কটিশ গ্রিন পার্টির এমএসপি কেট নেভেন্স এবং সাবেক লেবার এমপি স্যাম ট্যারি।
লুইস বলেন, ‘আমাদের আটক করা হয়েছিল, একপাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তারপর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। আমি জিজ্ঞাসাবাদ শব্দটিই ব্যবহার করছি, কারণ লোকজনকে চিৎকার করে কথা বলা হচ্ছিল। আমাদের জিজ্ঞেস করা হচ্ছিল, আমরা কেন ভেতরে যাচ্ছি, কী ঘটছে, আমাদের বক্তব্য কেন একরকম বা অন্যরকম। সব মিলিয়ে এটি ছিল গভীরভাবে অস্বস্তিকর একটি অভিজ্ঞতা।’
প্রতিনিধিদলটি প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের দ্বিতীয় রামাল্লা কংগ্রেসে অংশ নিতে যাচ্ছিল। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলের বিরোধিতার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সমাবেশের আয়োজক প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল, বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বে। কর্মসূচিতে ফিলিস্তিনি শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ট্যারি বলেন, প্রতিনিধিদলটির পশ্চিম তীরে পার হওয়ার ‘প্রকৃত সুযোগ’ ছিল বলে তিনি মনে করেছিলেন, কিন্তু জর্ডানে অ্যালেনবি/কিং হুসেইন সেতুতে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নয় ঘণ্টা আটকে রাখে। তিনি আরও বলেন, ‘তারা খুব স্পষ্টভাবে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—তারা চায়নি লোকজন পশ্চিম তীরে যা ঘটছে তা দেখুক, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে।’
এই প্রবেশ-বাধার ঘটনা ঘটেছে এমন সময়ে, যখন এই অঞ্চলে ফিলিস্তিনি জলপাইচাষি এবং বিদেশি সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা চলছে। পশ্চিম তীরের কিছু অংশে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ অনুমোদিত, তবে তা সামরিক চেকপয়েন্টের শর্তাধীন।
চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ফিলিস্তিনি জলপাইচাষিদের সঙ্গে থাকা অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার আদেশ কার্যকরের পথ খুঁজতে।
জাতিসংঘের ত্রাণ সমন্বয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে জলপাই তোলার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১৬০টি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীর হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে—প্রায়ই ইসরায়েলি বাহিনীর সুরক্ষায় বা তাদের অংশগ্রহণে।
ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গে থাকা ইউরোপীয় কূটনীতিক ও একজন ফরাসি মেয়রের ওপরও হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ৮০ জন জলপাই-তোলা স্বেচ্ছাসেবককেও আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার।
বার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি এসেছিলাম নিজেদের জমিতে জলপাই তুলতে গিয়ে হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে। তার বদলে কোনো কারণ না জানিয়েই সীমান্ত থেকে আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সাক্ষী হওয়া এবং সংহতি দেখানো। কিন্তু আমাদের তা করতে বাধা দেওয়া হলো। ইসরায়েলের লুকানোর কিছু না থাকলে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে যা ঘটছে তা আমাদের দেখতে দিতে তারা এত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কেন?’
প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের রাজনৈতিক সমন্বয়ক লায়লা হাজাইনেহ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান সহিংসতা সত্ত্বেও আমাদের প্রতিনিধিদল জলপাই তোলায় অংশ নিতে এবং ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে ফিলিস্তিনে পার হতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। প্রবেশের প্রতিটি প্রত্যাখ্যান এই দৃঢ়তাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইসরায়েলের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।




