কারাকে গির্জায় হামলার জবাবে সিরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর বিমান হামলা জর্ডানের

জর্ডানের বিমানবাহিনী সিরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। গত শুক্রবার জর্ডানের দক্ষিণের শহর কারাকে একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় হামলায় নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জর্ডানের বিমানবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর’ অনেক সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং তাদের বেশ কয়েকটি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। তবে গোষ্ঠীগুলো কারা বা হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান কোথায়, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলা চালানো দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের স্বাস্থ্য পরিচালক সিরিয়ার জাতীয় বার্তা সংস্থা সানাকে বলেছেন, নারী ও শিশু এবং ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিসহ অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, অভিযানটি দামেস্কের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছে। তবে সিরিয়া সরকার এর বিপরীত বক্তব্য দিয়েছে; তারা বলেছে, জর্ডানের হামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং এক বিবৃতিতে সীমান্ত এলাকায় মাঠপর্যায়ের ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার জর্ডান কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহের গির্জায় হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে; ওই হামলায় দুই ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। ভোরে গোলাগুলির পর গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনজনই আহত হন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শুক্রবার কারাকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালে গ্রিক অর্থোডক্স গির্জাটিতে হামলা হয়। রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ৫৫ মাইল (৯০ কিলোমিটার) দক্ষিণে অবস্থিত কারাকে একটি খ্রিস্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বসবাস করে।
হামলাটি দেশজুড়ে ধাক্কা দেয় এবং জর্ডান নিহতদের জন্য তিন দিনের শোক ঘোষণা করে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং হামলাকারীদের উদ্দেশ্য অজানা রয়ে গেছে।
সোমবার পরে জর্ডানের পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট গ্রেপ্তার তিনজনের নাম প্রকাশ করে: দুই ভাই হাজ্জাহ জাইদান মোহাম্মদ ও মিশাল জাইদান মোহাম্মদ এবং তাদের ভগ্নিপতি আহমদ সামি হুসেইন। তিনজনই জর্ডানি এবং আম্মানের দক্ষিণে কারাক থেকে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
সংস্থাটির প্রধান মেজর জেনারেল ওবায়দাল্লাহ আবদ রাব্বো আল-মায়তা এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দুকধারীদের ‘তাকফিরি’ বলে বর্ণনা করেন, তবে তারা কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘তারা শুধু নিজেদেরই প্রতিনিধিত্ব করে।’ জর্ডান বাহিনী যেই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তাদের আটক করে, সেখানে বড় একটি গোলাবারুদের ভান্ডার পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।
জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া বলেন, তিনজনের এই হামলা ‘সন্ত্রাসী, চরমপন্থী চিন্তাধারার’ ফল। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এই চিন্তাধারা দূর না হলে আমরা আবার এ ধরনের ঘটনা দেখব।’
জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ কর্তৃপক্ষকে ইসলামের ‘আইনবহির্ভূতদের’ এবং জর্ডানিদের ঐক্য নষ্ট করতে চাওয়া যে কারও বিরুদ্ধে ‘লৌহমুষ্টি’ দিয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা শপথ করেছিলাম সন্ত্রাসীরা শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না, এবং জর্ডানিদের বিভক্ত করে এমন অন্ধকার মতাদর্শের কোনো প্রবক্তাকে সহ্য করা হবে না।’
নিহতদের স্বজনরা বলেছেন, গ্রেপ্তারের খবরে তাদের কিছুটা স্বস্তি এসেছে। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এবং নিহতদের তিনজনের স্বজন খালেদ আল-বোরকান আল-মামলাকাকে বলেন, ‘গভীর ও বিশাল এই ট্র্যাজেডি সত্ত্বেও আজ যা ঘটেছে, তাতে আমাদের শোক কিছুটা লঘু হয়েছে — শুধু আমাদের, নিহতদের পরিবারের নয়, পুরো জর্ডানি জনগণের শোক।’
আরেক নিহতের চাচা ও হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ফারেস হালাসেহ টিভি স্টেশনটিকে বলেন, খবরটি আনন্দ এনেছে, তবে বেদনা রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর এই যন্ত্রণা ভুলব না।’




