নির্বাচনে হারের কয়েক ঘণ্টা পর ফ্লাভিও বলসোনারোর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ, দেশ ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই কট্টর ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে দেশ ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে এবং তাঁর সব পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস। এই একই বিচারপতি সিনেটরের বাবা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর অভ্যুত্থান চেষ্টার মামলার বিচার তত্ত্বাবধান করেছিলেন।
সংক্ষিপ্ত এই রায়ে শুধু একটি ফৌজদারি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ফেডারেল পুলিশ অর্থপাচারের একটি চক্রে ফ্লাভিও বলসোনারোর সম্ভাব্য জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করছে।
রায়ে তাঁকে তাঁর বন্ধু উইলার তোমাজের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তোমাজ একজন আইনজীবী, যিনি এমন বেটিং কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত, যেগুলো ব্যবহার করে প্রায় ৬৮ কোটি পাউন্ড পাচার করা হয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ।
রায়ে বলসোনারোর সব পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে কংগ্রেস সদস্য হিসেবে তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্টও রয়েছে। পাসপোর্টগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে সবার আগে বলসোনারো নিজেই প্রকাশ্যে কথা বলেন, ব্রাজিলের গণমাধ্যম রায়ের খবর জানার আগেই। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ভিডিওতে তিনি বলেন, ব্রাসিলিয়ায় গৃহবন্দী থাকা বাবার সঙ্গে দেখা করে ফেরার পর ‘লুলার ফেডারেল পুলিশ’ তাঁর দরজায় ও রাস্তার মাঝখানে ছিল এবং তাঁকে পাসপোর্ট হস্তান্তরের ও দেশ ছাড়তে না পারার আদেশ দেওয়া হয়।
বলসোনারো বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে তাঁর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর গত শুক্রবার দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারকে দেখানো হয়েছে, যেখানে এদুয়ার্দো তাঁর ভাইকে নির্বাচনে হারলে ব্রাজিল ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে ফ্লাভিও বলেন, ‘আমি কখনো তা বলিনি।’ এদুয়ার্দো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন।
আগামী বছরের শুরুতে সিনেটের মেয়াদ শেষ হলে ২৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি পদে থাকবেন না ফ্লাভিও বলসোনারো। ফলে পদাধিকারীদের জন্য থাকা বিশেষ এখতিয়ারও তাঁর থাকবে না।
তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি ফৌজদারি মামলারও তদন্ত চলছে। সেই মামলাটি তাঁর বাবাকে নিয়ে একটি জীবনীমূলক চলচ্চিত্রের জন্য দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যাংকারের কাছে ২ কোটি পাউন্ড চাওয়ার রেকর্ড করা কথোপকথন নিয়ে।
চার বছর আগে বাবা জাইর বলসোনারোর মতোই ফ্লাভিও এখনো লুলার কাছে পরাজয় স্বীকার করেননি।
ফোলিয়া দে সাও পাওলো পত্রিকা জানিয়েছে, ফ্লাভিওকে নির্বাচন বাতিলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে রাজি করানো হয়েছে; রোববার রাতে ফল ঘোষণার পর তিনি সেই বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন।
বলসোনারো দাবি করেছিলেন, বাধ্যতামূলক বিনামূল্যের গণপরিবহন ব্যবহার করতে না পারা ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোয় নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও তাঁর নিজের প্রচারশিবিরও সময় বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল। পত্রিকাটির মতে, মিত্র ও আইনজীবীরা তাঁকে বলেছেন, তাঁর এই যুক্তি আইনগতভাবে দুর্বল।
তবে বাতিলের দাবি থেকে সরে আসার কথা তিনি এখনো প্রকাশ্যে বলেননি। একই ভিডিওতে তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে লুলার টিকিট বাতিল চেয়ে তিনি আরেকটি মামলা করবেন; প্রচারের সময় তাঁর আইনি দল একই ধরনের মামলা করেছিল।




