পেট ভরে খেয়েও শরীর ক্লান্ত: ‘নীরব ক্ষুধা’ বা হিডেন হাঙ্গার কী, কেন হয়

তিন বেলা পেট ভরে খাওয়ার পরও অনেকের সারা দিন শরীর ক্লান্ত লাগে কিংবা কাজে মনোযোগ আসে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় হিডেন হাঙ্গার বা নীরব ক্ষুধা।
সহজ কথায়, হিডেন হাঙ্গার মানে খাবার না পাওয়া নয়। পর্যাপ্ত বা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পরও শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি এই অনুভূতি তৈরি করে। প্রতিদিন তিন বেলা ভারী খাবার খেয়েও একজন মানুষ অবচেতনভাবে আয়রন, জিংক, ভিটামিন এ বা বি১২-এর ঘাটতিতে ভুগতে পারেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমাদের দেশের খাবারে ভাত, রুটি বা আলুর মতো শর্করাজাতীয় খাবারের আধিক্য বেশি। এগুলো পেট ভরাতে সাহায্য করলেও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা অনুপুষ্টির জোগান দিতে পারে না। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
খনিজের ঘাটতির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শরীরে আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম বা আয়োডিনের অভাব রক্তস্বল্পতা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস এবং হাড়ের দুর্বলতা তৈরি করে।
ভিটামিনের ঘাটতির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন এ, ডি বা বি১২-এর অভাব দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেওয়া, ক্লান্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের কিছু উদাহরণ দেওয়া হয়েছে — সকালে চা-বিস্কুট, দুপুরে শুধু ভাত আর সামান্য ডাল, আর রাতে রুটি ও আলুভাজি খেয়ে পেট ভরা মনে হতে পারে, কিন্তু এই খাবারে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন ও মিনারেল থাকে না।
এ ছাড়া বলা হয়েছে, নিরামিষভোজীদের মধ্যে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি একটি সাধারণ চিত্র। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শরীর সহজে শোষণ করতে পারে না, তাই এর সঙ্গে লেবু বা আমলার মতো ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার খাওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মত উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জীবনের প্রথম ১ হাজার দিনে এই ঘাটতি ঘটলে তা শিশুর বুদ্ধিমত্তা ও শারীরিক বৃদ্ধিতে স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের অভাবে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং কর্মক্ষমতা কমে যায় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হিসেবে বলা হয়েছে — শুধু রুটি-আলুভাজি না খেয়ে পাতে ডাল, ছোলা বা নানা পদের মৌসুমি শাকসবজি রাখতে হবে; পোলাও বা খিচুড়িতে মটরশুঁটি ও বাদাম ব্যবহার করা যায়; ভাত বা ডালের সঙ্গে লেবু খাওয়ার অভ্যাস পুষ্টি শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে।
আরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, চা বা কফি ভরা পেটে বা খাবারের সঙ্গে না খেয়ে খাবার খাওয়ার কিছুটা পরে পান করতে হবে, কারণ চা-কফি উদ্ভিজ্জ আয়রনের শোষণ কমিয়ে দেয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল, দুধ, দই, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার রাখার চেষ্টা করতেও বলা হয়েছে।


