নবম চেষ্টাতেও অধরা ব্যালন ডি’অর এমবাপ্পের: প্রথমবার রানার্স-আপ হয়েও হতাশা লুকাতে পারেননি ফরাসি তারকা
বয়স কুড়ির আগেই জিতেছিলেন বিশ্বকাপ শিরোপা, রাজত্ব করছেন বিশ্ব ফুটবলে। একের পর এক ট্রফি আর ব্যক্তিগত অর্জনে কমতি নেই কিলিয়ান এমবাপ্পের ঝুলিতে। কিন্তু নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হলো এই ফরাসি তারকাকে।
এবার নিজেকে নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলেন এমবাপ্পে। মাঠে তাঁর পরিসংখ্যানও এমন কথাই বলছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৬০ ম্যাচে ৫৮ গোল আর ১৩টি অ্যাসিস্টে স্বপ্নের এক মৌসুম কাটানোর পরও ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ এই বর্ষসেরা পুরস্কার শেষ পর্যন্ত উঠল না তাঁর হাতে।
এবারের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। ১০০ জন প্যানেল সাংবাদিকের রায় নিজের পক্ষে টানতে ব্যর্থ ফরাসি এই তারকা হতাশা লুকাতে পারেননি। স্প্যানিশ ও ফরাসি গণমাধ্যমের খবর, এমবাপ্পে মনে করেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে পুরস্কারটি তাঁরই প্রাপ্য ছিল।
ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে এবারই প্রথম রানার্স-আপ হিসেবে ভোটযুদ্ধ শেষ করলেন এমবাপ্পে। এর আগে ২০১৮ সালে চতুর্থ, ২০১৭ ও ২০২৫ সালে সপ্তম, ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালে ষষ্ঠ এবং ২০২৩ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।
কোনো বড় দলগত ট্রফি না থাকলেও মাঠের বিধ্বংসী নৈপুণ্যে ভর করে ট্রফি জয়ের জোরালো আশা নিয়ে প্যারিসে এসেছিলেন এই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। কিন্তু ভোট গণনার শেষ ধাপে পিছিয়ে পড়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন তিনি।
প্যারিসের জমকালো মঞ্চে পৌঁছানোর আগে নিজের দাবির স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন এমবাপ্পে। ব্যালন ডি’অর জয় করাকে ফুটবল জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মৌসুমটা আমার দারুণ কেটেছে। প্রতিটি বড় প্রতিযোগিতায় শীর্ষ গোলদাতা ছিলাম আমি। সত্যি বলতে, আমার চেয়ে ভালো পারফর্ম এবার আর কেউ করেনি।’
নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যক্তিগত ট্রফি। এখানে এককের নৈপুণ্যকেই সবার ওপরে স্থান দেওয়া উচিত। মাঠে আলো ছড়ানো ও একাই ব্যবধান গড়ে দেওয়ার ক্ষমতাটিই এই ট্রফি জয়ের প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত।’
ইতিহাস অবশ্য এমবাপ্পের এই যুক্তির পক্ষেই কথা বলে। বিগত বছরগুলোতে দলগত বড় ট্রফি ছাড়াই স্রেফ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জোরে ব্যালন ডি’অর উঁচিয়ে ধরেছিলেন লিওনেল মেসি (২০১২, শুধুমাত্র কোপা দেল রে জয়) এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২০১৩)।
ব্যালন ডি’অর হাতছাড়া হলেও রেকর্ড বইয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছেন ফরাসি এই তারকা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসেছিলেন এমবাপ্পে—২২টি গোল নিয়ে তিনি পেছনে ফেলেন লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ডকে।
বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বারের মতো লা লিগার ‘পিচিচি’ ট্রফি এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। স্পর্শ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ৫৯ গোলের মাইলফলক।
২০১৭ সালে ‘গোল্ডেন বয়’ ও ২০১৮ সালে ‘কোপা ট্রফি’ ঝুলিতে পুরলেও সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় নাম লেখানোর এই চূড়ান্ত ট্রফিটি এখনো ফরাসি তারকার ক্যারিয়ারে অধরাই রয়ে গেল।

