২০২৮ সালের প্রার্থী বাছাইয়ে দক্ষিণের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের দিকেই তাকাতে বললেন কারভিল

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রবীণ কৌশলবিদ জেমস কারভিল দলকে পরামর্শ দিয়েছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের সময় দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা কী চান, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। তাঁর মতে, এই ভোটারগোষ্ঠী সামাজিকভাবে খুব উদারপন্থী না হলেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সবচেয়ে অনুগত।
‘পলিটিকস ওয়ার রুম’ পডকাস্টের সাম্প্রতিক পর্বে রাজনৈতিক কৌশলবিদ মার্ক ম্যাককিননের সঙ্গে আলাপে কারভিল এ মন্তব্য করেন। ম্যাককিনন উল্লেখ করেন, ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি শুরু হবে সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে; এর প্রভাব কী হতে পারে জানতে চাইলে কারভিল দলের জন্য একটি মূল পরামর্শ দেন।
কারভিল বলেন, ‘ডেমোক্রেটিক প্রার্থী বাছাইয়ে একক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠী হলো দক্ষিণের কৃষ্ণাঙ্গরা—আগেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকা উচিত। দলে এর চেয়ে অনুগত আর কোনো গোষ্ঠী নেই। আর সবাই যেন বোঝে, তারা খুব একটা উদারপন্থী নয়।’
তাঁর ভাষায়, এই ভোটাররা এমন প্রার্থী চান যিনি শুধু কথা বলেন না, কাজ করে দেখান। সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রচারে গেলে প্রার্থীদের নিজেদের করা কাজের কথা তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
কারভিল ডেমোক্রেটিক পার্টির সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘আমি বর্ণের মানুষের মহান বন্ধু’—এ ধরনের কথা বলা তাঁর কাছে অর্থহীন। তাঁর মতে, কোনো রাজনীতিক যদি সত্যিই কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের জন্য সুযোগ তৈরি করে থাকেন, তবেই তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে।
অতি বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের হাতে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। কারভিল বলেন, মনোনয়নের ক্ষমতা দক্ষিণের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া যাবে না; তা ‘অতিরিক্ত শিক্ষিত’ মানুষের হাতে গেলে সবকিছু গোলমাল হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটাররা যত দিন ডেমোক্র্যাটদের ২০২৮ সালের প্রার্থী বাছাইয়ের কেন্দ্রীয় দিশারি থাকবেন, তত দিন দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোবে।
কারভিলের মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ডেমোক্র্যাট ড্যান টারেনটাইন। তিনি বলেন, গড়পড়তা কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার বেশির ভাগ আমেরিকানের মতোই চরম উদারপন্থী নন; তাঁরা আগামী দিনের বিপ্লবের কল্পনায় সময় নষ্ট না করে আজকের সমস্যার সমাধানে প্রার্থী কী করবেন, তাতেই বেশি আগ্রহী। তবে টারেনটাইনের মতে, জয়ী প্রার্থী সম্ভবত এটিকে ‘হয় এটা, নয় ওটা’ ধরনের পছন্দ হিসেবে দেখবেন না; দুই গোষ্ঠীর কাছেই আবেদন রাখার পথ খুঁজবেন।




