স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন: ইসরায়েলি কোম্পানি ডিসকভার-টেকের বিরুদ্ধে নজরদারির সন্দেহ গবেষকদের

ইসরায়েলের একটি বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি কোম্পানি ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের ব্যবহারকারীদের বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। তাদের সন্দেহ, এর উদ্দেশ্য হতে পারে ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি চালানো। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত ছয় ব্যক্তির বরাত দিয়ে একটি ডিজিটাল প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
টোকিওভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ট্রেন্ড মাইক্রোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড এআইয়ের গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ইসরায়েলি কোম্পানি ডিসকভার-টেক স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের কাছে দেখানো ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের অন্যতম প্রধান উৎস। গবেষকদের মতে, এই বিজ্ঞাপনগুলো সম্ভবত ব্যবহারকারীদের ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করতে অথবা অন্য কোনো উপায়ে তাদের ওপর নজরদারি চালানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গবেষকরা তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ট্রেন্ড এআইয়ের টেলিমেট্রি থেকে পাওয়া ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের তথ্য ব্যবহার করেছেন। তারা দেখেছেন, ডিসকভার-টেক স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে দেওয়া বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দরদাতা হয়ে উঠেছে। এমনকি ১০০টিরও বেশি দেশে — যার মধ্যে এমন কয়েকটি দেশও রয়েছে যেখানে স্টারলিংক নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ — স্টারলিংক ট্র্যাফিকের ক্ষেত্রে তারা ছিল এক নম্বর দরদাতা।
বিজ্ঞাপনের এই দরদাতা হওয়ার প্রক্রিয়াটি ‘বিডিং’ নামে পরিচিত জটিল নিলাম ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়, যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতারা মানুষের ব্রাউজার ও অ্যাপের ভেতরে বিজ্ঞাপনের জায়গা নিশ্চিত করেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে স্পেসএক্স মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। গত দুই সপ্তাহ ধরে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও ডিসকভার-টেক এবং এর প্রধান নির্বাহীও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
গত ১৫ অক্টোবর স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রেন্ড এআই। তবে সেই প্রতিবেদনে ডিসকভার-টেকের নাম উল্লেখ করা হয়নি; বরং এর জন্য দায়ী পক্ষকে একটি ‘অ্যাড-টেক সত্তা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল, যার সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’। ছয়টি ভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ হলো ডিসকভার-টেকের জন্য ট্রেন্ড এআইয়ের দেওয়া সাংকেতিক নাম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনালের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, আর এই প্রেক্ষাপটে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার উপায় খুঁজে বের করা একটি বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে। এই টার্মিনালগুলো জাতীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে স্পেসএক্স পরিচালিত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে বলে এগুলো স্থানীয় ইন্টারনেট বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে পারে এবং প্রতিকূল এলাকায় যোগাযোগ বজায় রাখতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠেছে; দেশটির সামরিক বাহিনী সম্মুখসারিতে যোগাযোগ রক্ষা এবং ড্রোন হামলার দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এই সেবার ওপর নির্ভর করে।




