সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলায় বেসামরিক নিহতের অভিযোগ, দামেস্কের তীব্র নিন্দা

জর্ডানের বিমানবাহিনী সোমবার সন্ধ্যায় সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। জর্ডান বলছে, ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের আস্তানা’ লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় প্রায় ২০ জন ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে হামলায় বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে দেশটি।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, রয়্যাল জর্ডানিয়ান এয়ার ফোর্সের (আরজেএএফ) যুদ্ধবিমান কয়েকটি সন্ত্রাসী অবস্থান ধ্বংস করেছে; এতে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত ও আহত হয়েছে এবং তাদের সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। কারাকে একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় সাম্প্রতিক হামলায় নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনার ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-মোমানি বলেন, আসন্ন সন্ত্রাসী হুমকি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের পর এই হামলা চালানো হয়। তাঁর ভাষ্য, হামলায় ২০ জনের বেশি আইএস সদস্য নিহত হয়েছে এবং একটি ‘বড়’ অস্ত্রের গুদাম ধ্বংস হয়েছে।
আল-মোমানি আরও বলেন, জর্ডান বেসামরিক এলাকা ‘এড়িয়ে গেছে’ এবং ‘অনিচ্ছাকৃত প্রাণহানির’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। সিরীয় রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি জর্ডানের ‘গভীর শ্রদ্ধা’ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় একে ‘অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন’ এবং পূর্ব সমন্বয় ছাড়াই সিরিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা হামলায় মোট সাতজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে জানায়, দারা গভর্নরেটে একটি বিমান হামলায় একই পরিবারের পাঁচজন—তিন শিশু, এক নারী ও এক পুরুষ—নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটির ভাষ্য, দারায় হামলায় আরও একজন ৮০ বছর বয়সী ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং সুয়াইদা গভর্নরেটে নিহত হয়েছেন ৬০ বছর বয়সী একজন।
দারা অঞ্চলের আল-তাফ গ্রামের বাসিন্দা নাসুহ আল-সালিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন ক্ষেপণাস্ত্রটি আমাদের আঘাত করে। আমার মা, আমার বড় ভাই এবং তাঁর তিন সন্তান—দুই ছেলে ও এক মেয়ে—নিহত হয়েছে।’



