যুক্তরাষ্ট্রে সাজানো সশস্ত্র ডাকাতির মাধ্যমে ইউ ভিসা জালিয়াতি, মূল হোতার দুই বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে শত শত সাজানো সশস্ত্র ডাকাতির মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার একটি বড় জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা পার্থ নায়িকে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিওজে) অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রটি অ-নাগরিকদের অপরাধের ভুক্তভোগী সাজিয়ে তাদের জন্য ইউ ভিসার আবেদন করাত।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্থ নায়ি শিকাগো এলাকার ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও খাবারের দোকানে শত শত সাজানো ডাকাতির আয়োজন করেন। ভুক্তভোগী সেজে থাকা ব্যক্তিদের তিনি ইউ ভিসার আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণও দিতেন। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়া হতো।
মামলার সাজা-সংক্রান্ত নথিতে সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি সাকিব মোহাম্মদ হুসাইন লিখেছেন, নায়িই ছিলেন প্রধান আয়োজক এবং প্রায় প্রতিটি সাজানো ডাকাতির কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই আসামি ফেডারেল ইউ-ভিসা কর্মসূচিকে গুরুতরভাবে কলুষিত করেছেন, যে কর্মসূচি গুরুতর অপরাধের শিকার হওয়া বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশি নাগরিকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, হাজারো মানুষ ভুক্তভোগী সেজে এই চক্রে অংশ নিতে নায়িকে অর্থ দিয়েছেন। কেউ কেউ এই সাজানো ডাকাতিতে অংশ নিতে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত দিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভিখাভাই প্যাটেল, নীলেশ প্যাটেল, রবিনাবেন প্যাটেল ও রজনীকুমার প্যাটেল নামের অভিযুক্ত সহযোগীরা ভুক্তভোগী সাজতে নায়ির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যাতে তারা ইউ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। ইউ ভিসা তৈরি হয়েছিল ২০০০ সালের একটি আইনের অধীনে, পাচারের শিকার ও নির্যাতিত অভিবাসী নারীদের সুরক্ষার জন্য।
মানবপাচারবিরোধী সেই আইনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রতিনিধি ক্রিস্টোফার স্মিথ এই কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ভিসা জালিয়াতি বা সরকারি সুবিধা পেতে মিথ্যা দাবি করলে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগে বিচার হওয়া উচিত এবং দোষী হলে কারাদণ্ড হওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করা মানবপাচারের শিকার, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য তৈরি কর্মসূচির অপব্যবহার বিশেষভাবে নিন্দনীয়।
প্রসিকিউটরদের দাবি, নায়ি ও আরেক অভিযুক্ত কেওন ইয়ং সশস্ত্র ‘ডাকাত’ হিসেবে কাজ করার জন্য লোক নিয়োগ করতেন। কখনো কখনো সাজানো ডাকাতিকে বাস্তব দেখাতে তারা কথিত ভুক্তভোগীদের আঘাতও করতেন।
‘ডাকাতির’ পর কথিত ভুক্তভোগীদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আই-৯১৮ সম্পূরক ফরম জমা দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, যাতে কর্তৃপক্ষ প্রত্যয়ন করে যে তারা সহিংস অপরাধের শিকার হয়েছেন এবং ইউ ভিসা চাইতে পারেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের কাছে আই-৯১৮ ফরম জমা দেওয়া হতো।
একটি সাজানো ডাকাতির ঘটনায় একটি দোকানের এক কর্মচারী গুরুতর আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শিকাগোর একটি মদের দোকানে ‘ডাকাতির’ সময় এক অভিযুক্ত হামলাকারীর অস্ত্র থেকে দুর্ঘটনাবশত গুলি বের হয়ে ওই কর্মচারী গুরুতর আহত হন। এরপর হামলাকারীরা একটি চুরি করা গাড়িতে করে পালিয়ে যান।
২০২৪ সালের অভিযোগপত্রে এক ডজনের বেশি স্থানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে এই চক্রটি সক্রিয় ছিল। এর মধ্যে ইলিনয়ের বাইরে লুইজিয়ানার একটি সাবওয়ে ও মধ্য টেনেসির একটি ট্রাক স্টপও রয়েছে।
ডিওজের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, নায়ি ছাড়া আরও পাঁচজন ইতিমধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তবে তাদের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।




