‘সম্মতি নেই’ বলে গ্লাসগোর জাদুঘর থেকে সরানো হলো প্রাচীন মিশরীয় মমি

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর দুটি জাদুঘর প্রাচীন মিশরীয় মমি জনসমক্ষে প্রদর্শন থেকে সরিয়ে নিয়েছে। মৃত ব্যক্তি বা তাঁর বংশধরদের সম্মতি ছাড়া মানবদেহের অবশেষ প্রদর্শন করা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেলভিনগ্রোভ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়ামসহ গ্লাসগোর কয়েকটি জাদুঘর মানবদেহের অবশেষ প্রদর্শনের নীতি বদলেছে। জাদুঘরগুলো পরিচালনাকারী সংস্থা গ্লাসগো লাইফ সাড়ে তিন হাজার বছরের বেশি আগে বেঁচে থাকা মিশরীয় পুরোহিত নেখতের মমিকৃত দেহাবশেষ ও তাঁর আঁকা কফিন প্রদর্শন থেকে সরিয়ে নিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, মৃত ব্যক্তি বা তাঁর বংশধরদের সম্মতির অনুপস্থিতিতেই এই সিদ্ধান্ত।
গ্লাসগো লাইফের একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ‘গ্লাসগো লাইফের জাদুঘরগুলো থেকে মানবদেহের অবশেষ প্রদর্শন থেকে সরিয়ে নেওয়া সমসাময়িক জাদুঘর চর্চারই প্রতিফলন।’
মুখপাত্র বলেন, ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামসের ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত সংশোধিত নৈতিক বিধিতে বলা হয়েছে, ‘জাদুঘরগুলোকে মানবদেহের অবশেষের অন্তর্নিহিত মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এবং এর গুরুত্বের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়াতে হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন আফ্রিকান রিপ্যারেশনসের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন ‘লেয়িং অ্যানসেস্টরস টু রেস্ট’-এও প্রাচীন মিশরীয় মানবদেহের অবশেষ প্রদর্শন নিয়ে নৈতিক উদ্বেগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে পূর্বপুরুষদের সম্ভাব্য ইচ্ছাকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা এবং যেসব সম্প্রদায় মূলত তাঁদের সমাহিত করেছিল, তাদের উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে।
গ্লাসগো লাইফের মুখপাত্র বলেন, সংস্থাটির খসড়া মানবদেহের অবশেষ নীতিতে প্রস্তাব করা হয়েছে, কেবল মৃত ব্যক্তি বা উপযুক্ত ক্ষেত্রে তাঁর বংশধরদের নথিভুক্ত ও অবহিত সম্মতি থাকলেই মানবদেহের অবশেষ প্রদর্শন করা যাবে। তিনি বলেন, ‘এমন সম্মতির অনুপস্থিতিতে আমরা মনে করি, প্রাচীন মিশরীয় মানবদেহের অবশেষ প্রদর্শন থেকে সরিয়ে নেওয়াই মৃত ব্যক্তিদের প্রতি বেশি শ্রদ্ধাশীল।’
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের হান্টেরিয়ান জাদুঘর জানিয়েছে, লেডি শেপ-এন-হরের বিস্তারিত অলংকরণ করা শবাধার বা সারকোফ্যাগাস প্রদর্শনে থাকবে, তবে তাঁর মমিকৃত দেহাবশেষ এখন থেকে ঢেকে রাখা হবে, যাতে তা আর দেখা না যায়।
হান্টেরিয়ান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আরও নৈতিক প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে তারা সব বিভাগে প্রত্নতাত্ত্বিক ও শারীরস্থানিক মানবদেহের অবশেষের সংগ্রহ পর্যালোচনা করছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মানবদেহের অবশেষ সেই জিনিসগুলোর মধ্যে পড়ে, যেগুলো হান্টেরিয়ান সবচেয়ে বেশি আগ্রহ নিয়ে তাদের সম্প্রদায় ও উৎস দেশে ফিরিয়ে দিতে চায়।’
হান্টেরিয়ান আরও জানিয়েছে, মিশরবিদসহ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে গভীর বিবেচনা ও পরামর্শের পর তারা যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে আসা মানবদেহের অবশেষ আর খোলামেলাভাবে প্রদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লেডি শেপ-এন-হরের সারকোফ্যাগাসকে প্রয়াত যুগের প্রাচীন মিশরীয় অন্ত্যেষ্টি শিল্পের উৎকৃষ্ট নিদর্শন হিসেবে প্রদর্শন অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।




