তানজানিয়ায় কারাবন্দি বিরোধী নেতা তুন্দু লিসুর অনশন শেষ, মামলার রায় ৬ নভেম্বর
তানজানিয়ার কারাবন্দি বিরোধী নেতা তুন্দু লিসু সংক্ষিপ্ত অনশন শেষ করেছেন। তাঁর আইনজীবী রুগেমেলেজা নশালা মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, আইনজীবীদের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়ার পর দুপুরের খাবারের সময়ের পর লিসু অনশন শেষ করেন। আইনজীবীদের কারাগারে ঢুকতে না দেওয়ার প্রতিবাদে তিনি খাবার খেতে অস্বীকার করেছিলেন।
লিসু বিরোধী দল পার্টি ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড প্রগ্রেসের (চাদেমা) নেতা এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন। দলের মুখপাত্র ব্রেন্ডা রুপিয়া এক্সে জানান, আইনজীবীদের কারাগারে প্রবেশ করতে না দেওয়ার পর সোমবার থেকে লিসু খাবার খেতে অস্বীকার করেন। নশালা অবশ্য বলেছেন, প্রতিশ্রুত একান্ত পরামর্শের সুযোগ না পাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে অনশন শুরু হয়। তিনি জানান, লিসু চা, সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার নেননি।
তানজানিয়ার কারাগার কর্তৃপক্ষ সোয়াহিলি ভাষার দৈনিক মুয়ানাঞ্চিকে বলেছে, লিসু নিরাপদে আছেন এবং তিনি অনশনে ছিলেন না। দুই পক্ষের বক্তব্যে অনশন শুরুর সময় নিয়ে এই পার্থক্য রয়ে গেছে।
নশালা লিসুর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, কারণ লিসু ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। ২০১৭ সালে লিসু একটি হত্যাচেষ্টায় ১৬ বার গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণে বেঁচে যান।
লিসুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ রয়েছে, যার সম্ভাব্য শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে ডাকা একটি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কৌঁসুলিদের অভিযোগ, তাঁর ওই বক্তব্যে জনগণকে বিদ্রোহ করতে এবং গত বছরের সাধারণ নির্বাচন ব্যাহত করতে উসকানি দেওয়া হয়েছিল।
লিসু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং তাঁর আইনজীবীরা বলছেন, অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলাটির রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য রয়েছে ৬ নভেম্বর।
লিসুর আটক এবং সরকারের সমালোচকদের কথিত অপহরণের ঘটনাগুলো প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের মানবাধিকার রেকর্ডের দিকে নজর টেনেছে; তিনি ২০২৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। সরকার ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছে। ২০২৪ সালে অপহরণের প্রতিবেদনগুলোর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হয়নি।
মঙ্গলবার চাদেমা ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনের বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছে। সরকার-নিযুক্ত একটি তদন্তে বলা হয়েছে, ওই নির্বাচনের পরের সহিংসতায় অন্তত ৫১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। চাদেমার হিসাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার, যা জাতিসংঘ যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।



