ইসরায়েলে বুথফেরত জরিপ: নেতানিয়াহুর জোট ৫০ আসনে পিছিয়ে, আইজেনকোটের জোট ৫২–৫৩

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট বড় ধাক্কা খেয়েছে। দেশটির প্রধান তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর জোট সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হয়। এটি ছিল নেসেটের ২৬তম নির্বাচন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ এবং বেসরকারি ‘চ্যানেল ১২’ ও ‘চ্যানেল ১৩’-এর বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। বর্তমান পার্লামেন্টে তাদের আসন ছিল ৬৮টি।
অপরদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ও ইহুদিবাদী বিরোধী জোট পেতে যাচ্ছে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন। ‘কান’ ও ‘চ্যানেল ১৩’-এর মতে এই জোটের আসন ৫৩টি, আর ‘চ্যানেল ১২’-এর মতে ৫২টি।
দল হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিই সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হতে চলেছে বলে তিনটি জরিপেই বলা হয়েছে। ‘কান’, ‘চ্যানেল ১২’ ও ‘চ্যানেল ১৩’—তিনটি প্রতিষ্ঠানই বলেছে, লিকুদ পেতে পারে ২৪ থেকে ২৫টি আসন।
তবে জোট হিসেবে পিছিয়ে থাকায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন থেকে নেতানিয়াহুর জোট অনেক দূরে রয়েছে। ফলে তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হতে চলেছে বলে জরিপের ফলাফলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এ ছাড়া আরব দলগুলোর মোর্চা জয়েন্ট লিস্ট ও আরবদের আরেক দল ‘রা’আম’ মিলে পেতে চলেছে ১৭ থেকে ১৮টি আসন। এই আসনসংখ্যা পরবর্তী সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুথফেরত জরিপের তথ্য আসার পর বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কাউকে আপনাদের বিভ্রান্ত করতে দেবেন না: নেতানিয়াহুর ব্লক বিপর্যয়কর পরাজয় বরণ করেছে। পুরোপুরি ধস নেমেছে এবং জনগণ তাদের ঘরে ঢুকে যেতে বলেছে।’
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের ভোটে প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি হতে চলেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন, এবং অনেক ইসরায়েলির চোখে এটি দেশটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোট।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচনের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। ভোটার নামা অ্যারনসন বলেন, এই নির্বাচন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বললে কম বলা হয়, এটি ‘অত্যন্ত জরুরি’। তিনি বলেন, ‘আমি উদ্বিগ্ন। বড় কোনো পরিবর্তন না এলে আমাদের দেশের কী হবে?’ অন্যদিকে ৩০ বছর বয়সী আরব ভোটার নুর আবু না বলেন, এই সরকার ‘আমাদের জন্য ভালো নয়, কারও জন্যই ভালো নয়’। ভোটার ইতামার অ্যারিয়েল আবার বলেন, ইসরায়েলে সমস্যা থাকলেও নেতানিয়াহুর বিকল্প কেউ নেই এবং তাঁর পছন্দের ভিত্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা।
ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচন হয় সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে; ভোটাররা কোনো প্রার্থীকে নয়, দলকে ভোট দেন এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে দলগুলো আসন পায়। পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে একটি দলকে মোট ভোটের অন্তত সাড়ে তিন শতাংশ পেতে হয়। এই পদ্ধতির কারণে ইসরায়েলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি; সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার অন্তত ৬১টি আসন।
চূড়ান্ত ফল বুধবারের আগে জানা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কোনো জোট সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কে ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নির্ধারণে দলনেতাদের সরকার গঠনের জোট বাঁধতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।




