টরন্টোতে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র অলিভিয়া চাউ, পেলেন ৫৪ শতাংশ ভোট

কানাডার টরন্টো শহরে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন অলিভিয়া চাউ। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ডকে ১৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছেন—চাউ পেয়েছেন ৫৪ শতাংশ ভোট, ব্র্যাডফোর্ড ৪১ শতাংশ।
ঘনিষ্ঠ লড়াই হবে বলে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে জরিপে সমানে সমান চিত্র দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত চাউয়ের জয় ছিল স্পষ্ট। নির্বাচনে রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি হয়েছে এবং প্রগতিশীল কাউন্সিলরদের প্রতি সমর্থনের ঢেউ দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জয়ের পর চাউ আরও ভাড়াবাড়ি, বিনা মূল্যে স্কুলের দুপুরের খাবার এবং ঘন ঘন গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য ভাড়া কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সোমবার রাতে তিনি সমর্থক ও ব্র্যাডফোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লসিত জনতার উদ্দেশে চাউ বলেন, ‘আমি জানি আমরা টরন্টোর প্রতি ভালোবাসা এবং এর ভবিষ্যতের প্রতি বিশ্বাস ভাগ করে নিই। আমরা সেখানে কীভাবে পৌঁছাব বা তা কেমন হবে তা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু আমি সন্দেহ করি না যে আমরা দুজনেই এই শহরের জন্য সেরাটাই চাই।’
৬৯ বছর বয়সী চাউ দীর্ঘদিন ধরে শহরটির রাজনীতির পরিচিত মুখ। তিনি আগে স্কুল বোর্ড ট্রাস্টি, সিটি কাউন্সিলর ও কেন্দ্রীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি ৫ লাখ ৩২ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন, যা ২০২৩ সালে পাওয়া ভোটের প্রায় দ্বিগুণ।
সাবেক সিটি কাউন্সিলর ও নগর পরিকল্পনাবিদ ব্র্যাডফোর্ড প্রচারে মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে ও অপরাধ মোকাবিলায় চাউয়ের ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বাসিন্দাদের বলেন, টরন্টোতে অপরাধ এত বেড়েছে যে তিনি বিছানার পাশে বেসবল ব্যাট নিয়ে ঘুমান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়ি চুরি ও উচ্চমূল্যের সম্পত্তি অপরাধ বাড়লেও হত্যা, আগ্নেয়াস্ত্র-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা ও হামলাসহ বেশিরভাগ অন্যান্য ধরনের অপরাধ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্র্যাডফোর্ড আরও পুলিশ প্রয়োজন বলে বলেন এবং কর ও নগর ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
পরাজয় স্বীকার করে দেওয়া ভাষণে ৪০ বছর বয়সী ব্র্যাডফোর্ড সৌজন্যমূলক সুরে বলেন, ‘আমি চাই তিনি সফল হোন। আমার সমর্থকরা এবং আজ রাতে আমাদের প্রায় ৪ লাখ মানুষ যারা ভোট দিয়েছেন, তারাও চান তিনি সফল হোন। আমরা সবাই এই শহরকে ভালোবাসি। আমরা জানি এটি আরও ভালো হতে পারে।’
ব্র্যাডফোর্ড তার প্রার্থিতার কঠিন সম্ভাবনার কথাও স্বীকার করেন: কানাডার বৃহত্তম শহরে পুনর্নির্বাচন চাওয়া কোনো ক্ষমতাসীন মেয়র কখনো হারেননি।
চাউ অন্টারিও সরকার ও এর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের সঙ্গে টানাপোড়েনের সম্পর্ক সামলানোর সক্ষমতা থেকেও সুবিধা পেয়েছেন। ২০২৩ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার সময় ফোর্ড বলেছিলেন তিনি শহরের জন্য ‘সম্পূর্ণ বিপর্যয়’ হবেন। এবার ফোর্ড তাকে সমর্থন না দিলেও সাংবাদিকদের বলেন তাদের সম্পর্ক ‘অসাধারণ’ এবং তার পছন্দের প্রার্থী নিয়ে ‘লাইনের ফাঁকে পড়তে’ বলেন। তবে শহরের বাইক লেন নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যান্য বড় শহরের মতো টরন্টোও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটে আটকে আছে, যা নতুন কাউন্সিলের জন্যও চ্যালেঞ্জ থাকবে। এবার অনেক প্রগতিশীল প্রার্থী ফিরে এসেছেন ও প্রথমবার জিতেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন গৃহহীন মানুষের পরিচিত অধিকারকর্মী ডায়ানা ম্যাকন্যালি চ্যান, যিনি সিটি কাউন্সিলে বসা প্রথম ভাড়াটিয়া হবেন।



