ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি দলগুলোর আসন বেড়ে ১৭–১৮: সরকার গঠনের সমীকরণ বদলে দিল বুথফেরত জরিপ

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে ফিলিস্তিনি দলগুলোর বড় উত্থান দেখা গেছে। আগের নেসেটে তাদের আসন ছিল ১০টি; এবার তা বেড়ে ১৭ থেকে ১৮টি হতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস মিলেছে। এই পরিবর্তনই দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে সাজিয়ে দিচ্ছে।
মঙ্গলবারের বুথফেরত জরিপের পর বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোট ফলকে ‘ইসরায়েলের জায়নবাদী জাতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের’ জয় বলে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু প্রকৃত ফল তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বুথফেরত জরিপে আইজেনকোটের বিরোধী জোট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হতে পারে।
ফিলিস্তিনি দলগুলোর এই উত্থান মূলধারার বিরোধী শিবিরের সামনে একটি জরুরি ও মৌলিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সামনে পথ দুটি—হয় আরব ইসরায়েলিদের সঙ্গে সহযোগিতা করা, নয়তো নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার পথ করে দেওয়া।
আরব ব্লকের এই সাফল্য উদ্যাপন করেছে জয়েন্ট আরব লিস্ট। রেকর্ড সংখ্যক আরব ভোটারের উপস্থিতি পরবর্তী সরকারে তাদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আশা বাড়িয়েছে। এক সাবেক আইনপ্রণেতা ঘোষণা করেছেন, ‘বেন-গভির আউট’, আর দলীয় উদ্যাপনে ‘বাড়ি যাও, বেন-গভির’ স্লোগানও উঠেছে।
চূড়ান্ত ফলে এই পূর্বাভাস নিশ্চিত হলে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের হাতে থাকবে, তিনি প্রথমে কাকে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে বলবেন। এক প্রার্থী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সফল হতে না পারলে সুযোগ যাবে পরের জনের কাছে। এই পুরো সময়জুড়ে নেতানিয়াহুর জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে থেকে যাবে এবং প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।
আইজেনকোট যুক্তি দেবেন, তাঁর জোটই বড় এবং নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা গড়ার সুযোগ তাঁরই বেশি। তবে তা করতে হলে তাঁকে ও তাঁর ‘পরিবর্তন’ শিবিরের অংশীদারদের ফিলিস্তিনি দল জয়েন্ট লিস্ট এবং রাম (ইউনাইটেড আরব লিস্ট) দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।
তুলনামূলকভাবে রাম ও তার নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গে কথা বলা সহজ হতে পারে। আব্বাস এর আগে নাফতালি বেনেটের ডানঘেঁষা সরকারে অংশ নিয়েছিলেন; বেনেট এখন আইজেনকোট শিবিরের একজন কনিষ্ঠ অংশীদার। আব্বাস রাজনৈতিক সমঝোতার ইচ্ছা দেখিয়েছেন এবং মঙ্গলবার জোর দিয়ে বলেছেন, এই নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, স্মোট্রিচ ও বেন গভিরকে নামিয়ে আনাই তাঁর অগ্রাধিকার।
তবে বুথফেরত জরিপভিত্তিক বেশির ভাগ হিসাব অনুযায়ী, রাম দুই ফিলিস্তিনি দলের মধ্যে ছোটটি, নতুন নেসেটে তাদের আসন হতে পারে সাতটি। শুধু ওই আসন দিয়ে, আইজেনকোট শিবিরের অন্য সদস্যদের সম্মতি থাকলেও, সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন যথেষ্ট হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
১০ বা তার বেশি আসন পেতে যাওয়া জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে আলোচনা আরও কঠিন হবে। আইজেনকোট চারটি শর্ত রেখেছেন—ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণায় প্রকাশিত মূল্যবোধ মেনে নেওয়া, বর্তমানে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সেনাসেবা মেনে নেওয়া এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিন্দা করা।
মঙ্গলবার ভোট গণনার সময় জয়েন্ট লিস্টের সবচেয়ে বড় অংশ সমাজতান্ত্রিক দল হাদাশের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ শবিতা বলেছেন, আইজেনকোট জোট আলোচনার শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই। তাঁর ভাষায়, শর্ত আরোপ জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে চলবে না; তারা সমান হিসেবে আলোচনা করবে, কারণ দুই পক্ষেরই একে অপরকে প্রয়োজন।
এক বা দুই ফিলিস্তিনি দলের সঙ্গেই চুক্তি না হলে আইজেনকোট সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, যেখানে ভোটে ভোটে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা নতুন জোটকে টিকিয়ে রাখবে। তবে তা হবে অস্থিতিশীল সমাধান, তাতে আরেকটি নির্বাচনের সম্ভাবনা বাড়বে।
সেই সুযোগে নেতানিয়াহু রক্ষণশীল ইহুদি ইসরায়েলিদের সমর্থন জোগাড় করে দাবি করতে পারেন, তাঁর প্রচারের স্লোগান ‘ডানপন্থা নাকি ফিলিস্তিন’ সঠিক ছিল। তিন দশক ধরে শীর্ষে বা শীর্ষের কাছাকাছি থাকা নেতানিয়াহু আগেও পরাজিত বলে মনে হওয়ার পর প্রত্যাবর্তন করেছেন। এবারও আরেকটি প্রত্যাবর্তন কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না, যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার তা ঘটলে তাঁকে তাঁর ঘোষিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দেওয়া সুযোগের ওপরই নির্ভর করতে হবে।



